এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ ৩৮ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর বর্তমানে ১৫ দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে। এই সংক্ষিপ্ত বিরতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর নতুন বিধিমালা ও টোল নির্ধারণ করে দিয়েছে তেহরান। এখন থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ ব্যবহার করতে হলে জাহাজগুলোকে আগাম টোল পরিশোধ করতে হবে।
তবে এক্ষেত্রে ইরান মার্কিন ডলারের পরিবর্তে বিটকয়েন বা ক্রিপ্টো কারেন্সি এবং চীনা মুদ্রা ইউয়ানে অর্থ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বৃহস্পতিবার এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পক্ষ থেকে জাহাজ কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, এই পথ দিয়ে পার হতে হলে আগে থেকেই অনুমতির জন্য আবেদন করতে হবে। ইরানের নির্ধারিত এই বিশেষ ব্যবস্থাটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের দুই সপ্তাহের চুক্তি চলাকালীন সময় পর্যন্ত কার্যকর থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বরাতে জানা গেছে, যেসব জাহাজ তেল পরিবহন করবে তাদের প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার করে টোল দিতে হবে। তবে যেসব জাহাজ কোনো পণ্য ছাড়াই খালি অবস্থায় এই প্রণালি অতিক্রম করবে, তাদের জন্য আপাতত কোনো ফি নির্ধারণ করা হয়নি।প্রতি ব্যারেল তেল থেকে ১ ডলার করে আদায়ের অর্থ হলো, বিশাল আকৃতির সুপার ট্যাংকারগুলোকে এই জলপথ পার হতে কয়েক মিলিয়ন ডলার গুনতে হবে। তেহরানের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি জাহাজ কোম্পানিকে প্রণালিতে প্রবেশের আগেই ইমেইলের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে আগাম নোটিশ পাঠাতে হবে।
ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সব তথ্য যাচাই করে অনুমতি দিলে তবেই জাহাজ প্রবেশের সুযোগ পাবে। এই টোল সংগ্রহের জন্য ইরান শুধুমাত্র বিটকয়েন এবং চীনা ইউয়ান গ্রহণ করবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। এছাড়া জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান উপকূলের নির্দিষ্ট রুট, বিশেষ করে কাশেম এবং লারেক দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী এলাকাটি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ইরান কেন ডলারের পরিবর্তে বিকল্প মুদ্রায় এই অর্থ নিচ্ছে, তার পেছনে বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণ রয়েছে। তেহরান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর কঠোর আর্থিক ও ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞার শিকার।
ফলে ডলারে লেনদেন করা তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে ক্রিপ্টো কারেন্সিতে লেনদেন করলে সেটি পশ্চিমা বিশ্ব সহজে শনাক্ত করতে পারবে না এবং ইউয়ানে লেনদেনের মাধ্যমে তারা পশ্চিমা ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে চায়। ইরানের বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর জাহাজগুলো সহজে যাতায়াত করতে পারলেও শত্রুভাবাপন্ন দেশের জাহাজের ক্ষেত্রে ইরান কড়াকড়ি কিংবা পারাপারে দীর্ঘসূত্রতা করার ইঙ্গিত দিয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থাটি ইতোমধ্যে কার্যকর শুরু হয়েছে বলে আঞ্চলিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে, যা পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন