মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

প্রথম দফার ভোটে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ১১:২৬ এএম

প্রথম দফার ভোটে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শেষ হতেই নিজেদের নিরঙ্কুশ জয়ের বিষয়ে জোরালো দাবি তুলেছে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি অনুযায়ী, প্রথম দফায় ভোট হওয়া ১৫২টি আসনের মধ্যে অন্তত ১২৫টি আসনে তৃণমূলের জয় নিশ্চিত। এমনকি এই সংখ্যা ১৩৫ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে তারা পূর্বাভাস দিয়েছেন। 

প্রথম দফার এই সম্ভাব্য ফলাফল দলটিকে আবারও সরকার গঠনের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে বলে মনে করছেন তৃণমূলের নীতি নির্ধারকরা।বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর কলকাতায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এবং রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে এই হিসাব তুলে ধরেন। 

কুণাল ঘোষ বলেন যে, তাদের মাঠ পর্যায়ের তথ্য ও পূর্বাভাসের সাথে নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি হুবহু মিলে গেছে। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন যে, নন্দীগ্রামে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পরাজয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। 

একই সাথে ভবানীপুরেও বিজেপি সুবিধা করতে পারবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। মজার বিষয় হলো, শুভেন্দু অধিকারীও একই দিনে সমসংখ্যক অর্থাৎ ১২৫টি আসন বিজেপি পাবে বলে পাল্টাপাল্টি দাবি করেছেন।বৌবাজার এলাকায় আয়োজিত এক জনসভায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রশংসা করে বলেন যে, জনগণের মনোভাব স্পষ্ট বলে দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যে অনেকটা এগিয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন যে, ভোটার তালিকা থেকে অনেক বৈধ নাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এই বঞ্চনার প্রতিবাদ জানাতেই সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ভোটাররা বিপুল সংখ্যায় ভোটকেন্দ্রে এসেছেন বলে তিনি মনে করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট গণনার প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হয়, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের কড়া দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।তৃণমূল নেতৃত্বের মতে, এবার ভোটদানের হার বেশি হওয়ার পেছনে সরকারবিরোধী কোনো মনোভাব নেই, বরং ভোটার তালিকা নিয়ে মানুষের ক্ষোভ কাজ করেছে। কুণাল ঘোষের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যারা তালিকায় নাম থাকার সুযোগ পেয়েছেন, তারা অধিকার রক্ষার লড়াই হিসেবেই ভোট দিয়েছেন।

 ব্রাত্য বসু বিহারের নির্বাচনের উদাহরণ টেনে বলেন যে, বেশি ভোট পড়া মানেই শাসক দলের পতন—এই তত্ত্ব সবসময় সঠিক নয়। বরং পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে এই জোয়ার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চতুর্থবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় বসাবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।

নির্বাচনের পরবর্তী দফাগুলোতে দক্ষিণবঙ্গের তৃণমূলের শক্তিশালী ঘাঁটিগুলোতে ভোটগ্রহণ হবে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন, প্রথম দফার এই লিড পরবর্তী ধাপগুলোতে বিজেপিকে আরও কোণঠাসা করে ফেলবে। দলের অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোটের হার ও আসন সংখ্যা গতবারের তুলনায় অনেকটা বাড়তে পারে। নির্বাচনের ফলাফল কোন দিকে মোড় নেয়, তা জানতে এখন অপেক্ষা করতে হবে চূড়ান্ত গণনার দিন পর্যন্ত। তবে প্রথম দফার শেষে তৃণমূলের এই আত্মবিশ্বাস রাজ্য রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে।