মে ৯, ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির নতুন সরকার শপথ নেওয়ার দিনই রাজনৈতিক পাল্টা বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিজেপির বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্যের ডাক দেন তিনি। কালীঘাটে নিজের বাসভবনে রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাম, অতিবাম, জাতীয় দল এবং ছাত্র-যুব সংগঠনসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যে বর্তমানে সন্ত্রাস ও দমননীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির মোকাবিলায় সব বিরোধী শক্তিকে একসঙ্গে আসা জরুরি। রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বিজেপির বিরুদ্ধে সম্মিলিত লড়াই।
তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বাম বা যে কোনো জাতীয় শক্তি চাইলে আলোচনায় বসতে পারেন এবং একটি বিজেপি-বিরোধী বৃহত্তর মঞ্চ গড়ে তোলা প্রয়োজন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতির সামনে দাঁড়িয়ে তৃণমূল নেত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কে কোন দল করেন সেটি বড় প্রশ্ন নয়। রাজনৈতিকভাবে বিজেপিকে প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখতে হবে। তাঁর মতে, এখন বিভাজনের নয় বরং ঐক্যের সময়। তবে মমতার এই আহ্বানের পর সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম কটাক্ষ করে রবীন্দ্রনাথের কবিতার পংক্তি উল্লেখ করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক বাধা দেওয়ার অভিযোগও তোলেন। তাঁর দাবি, রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে ‘দেশ বাঁচাও গণতান্ত্রিক মঞ্চ’-এর কর্মসূচির জন্য একাধিক জায়গায় অনুমতি চাওয়া হলেও তা দেওয়া হয়নি। এমনকি কালীঘাটের অনুষ্ঠান আয়োজনেও নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, মঞ্চ ও প্যান্ডেল সরবরাহ বন্ধ করার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত নিজেদের উদ্যোগেই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
রাজ্যে বিজেপি-সমর্থিত সন্ত্রাস চলছে দাবি করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, বাইরের লোক এনে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের ভয় দেখানো হচ্ছে। হামলা চালানো হচ্ছে এবং তাঁর পরিবারও এই পরিস্থিতি থেকে রেহাই পাচ্ছে না। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনেও অশান্তি তৈরির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যদের হেনস্তার মুখে পড়তে হচ্ছে।
নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতি হতে দেননি। বিরোধীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন। তবে এখন তৃণমূল কর্মীদের ওপর লাগামহীন সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৭টি আসনে জয় পেয়ে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮০টি আসন। এছাড়া কংগ্রেস ২, সিপিএম ১, আইএসএফ ১ এবং এজেইউপি ২টি আসনে জয়ী হয়েছে। ভোটের শতাংশের নিরিখে বিজেপি পেয়েছে ৪৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ এবং তৃণমূল পেয়েছে ৪০ দশমিক ৮০ শতাংশ ভোট।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন