মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬,

মমতা কী আইনজীবী, রিপোর্ট চাইল ভারতের বার কাউন্সিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে ১৫, ২০২৬, ১১:১৬ এএম

মমতা কী আইনজীবী, রিপোর্ট চাইল ভারতের বার কাউন্সিল

মমতার আইনজীবী পরিচয় নিয়ে বিতর্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি এবং তার আইনচর্চার বর্তমান অবস্থা জানতে চেয়েছে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) পশ্চিমবঙ্গের বার কাউন্সিলের কাছে এই সংক্রান্ত সব তথ্য চেয়ে একটি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

কলকাতা হাইকোর্টে বৃহস্পতিবার রাজ্যের নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে হাজির ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই দিন আইনজীবীদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ পোশাক পরেই তিনি আদালতে আসেন এবং সংশ্লিষ্ট মামলায় নিজেই প্রশ্ন করেন। 

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরেই আইনজীবী হিসেবে তিনি বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত কি না এবং তার সদস্যপদ সচল আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া মূলত চারটি বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছে। প্রথমত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের বার কাউন্সিলে নিবন্ধিত কি না। 

দ্বিতীয়ত, আইনজীবী হিসেবে তার প্র্যাকটিসের বর্তমান অবস্থা কী—তা সচল, স্থগিত নাকি বাতিল হয়েছে। তৃতীয়ত, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি তার প্র্যাকটিস স্থগিত রাখার বিষয়ে কোনো লিখিত বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিলেন কি না। এবং সবশেষে, পুনরায় প্র্যাকটিস শুরু করার জন্য কোনো আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে কি না।এর আগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি একটি মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে দীর্ঘ সময় পর আইনজীবীদের পোশাকে সুপ্রিম কোর্টে দেখা গিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। নির্বাচনের পরাজয়ের পর তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, এখন থেকে তিনি দলের বিভিন্ন মামলায় ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকবেন এবং পেশাগতভাবে আইনজীবী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী এ দিন তিনি হাইকোর্টে সওয়াল করতে হাজির হন।

আদালতে সওয়াল করার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই উল্লেখ করেন যে, তিনি ১৯৮৫ সালে আইনজীবী হিসেবে বার কাউন্সিলে নথিভুক্ত হয়েছিলেন। এর আগেও তিনি একাধিকবার দাবি করেছেন যে, প্রশাসনিক কাজের বাইরে তিনি চাইলে যেকোনো সময় আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে পারেন। তবে বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া এখন এই বিষয়ের সত্যতা এবং তার সদস্যপদের বর্তমান আইনি অবস্থান যাচাই করতে চাইছে। পশ্চিমবঙ্গের বার কাউন্সিল থেকে রিপোর্ট আসার পর এই বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।