রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

নেপালে পাহাড়ি ঢল ও তুষারধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০০ জনে দাঁড়িয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আগস্ট ২৬, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম

নেপালে পাহাড়ি ঢল ও তুষারধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১০০ জনে দাঁড়িয়েছে

ছবি : সংগৃহীত

পাহাড়ি অঞ্চলের নদীগুলোতে হঠাৎ হিমবাহ ধস বা তীব্র ভূকম্পনের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও তুষারধস প্রায় সময়ই সীমান্তবর্তী জনপদগুলোতে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনে। পাহাড়ি ভূখণ্ডের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোতে এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে ব্যাপক প্রাণহানি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে। 

দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পাহাড়ি রাষ্ট্র নেপালে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত এমনি এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক তাণ্ডবে হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে উঠেছে।নেপাল ও তিব্বত সীমান্তবর্তী ভোতে কোশি নদীতে নেমে আসা আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও ভয়াবহ তুষারধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে অন্তত একশ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজ রয়েছেন চার শতাধিক মানুষ।বুধবার ভোরের দিকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উত্তরাঞ্চলীয় রসুয়া জেলায় এই মারাত্মক প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে। 

ঘটনার পর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এবং নেপাল পর্যটন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে দুর্ঘটনাকবলিত দুর্গম এলাকায় আটকে থাকা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের খুঁজে বের করতে বড় পরিসরে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নিখোঁজ চার শতাধিক মানুষের মধ্যে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ ছাব্বিশটি ভিন্ন দেশের বহু ভ্রমণপিপাসু বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল সংসদে জানিয়েছেন যে ভোরে ওই অঞ্চলে একটি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার কারণে পার্শ্ববর্তী পর্বতচূড়ায় তীব্র হিমবাহ ধস নামে এবং তার ফলেই এই আকস্মিক ও ধ্বংসাত্মক পাহাড়ি ঢলের সৃষ্টি হয়েছে।

পাহাড় থেকে নেমে আসা পানির তীব্র তোড়ে নেপাল ও সংলগ্ন চীন অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে এবং দুই দেশের উদ্ধারকারী দল যৌথভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য কাজ করছে। নেপালি সেনাবাহিনী বিমান বাহিনী ও বিশেষ দুর্যোগ মোকাবিলা টিম মোতায়েন করেছে এবং এটিকে ২০১৫ সালের প্রলয়ংকরী ভূমিকম্পের পর দেশের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করেছে। রসুয়া ও নুয়াকোট জেলার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য রুট, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও একাধিক সেতু পুরোপুরি ধসে পড়ার কারণে দুর্গম এলাকাগুলোতে ত্রাণ ও উদ্ধারকর্মীদের পৌঁছাতে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।