অক্টোবর ১০, ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ এলাকায় দলীয় নেতাদের সঙ্গে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে অবস্থান ধর্মঘটে বসেন তিনি। সেখান থেকে তাকে হেফাজতে নেয় দিল্লি পুলিশ। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ এনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছিলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আহ্বানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলা বিক্ষোভকে ঘিরে একের পর এক রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে আটক করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ সময় সর্বভারতীয় ছাত্র সমিতির (এআইএসএ) সভাপতি নেহা বোরাকে আটক করা হয়েছে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
ছাত্র সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নেহা বোরাকে আটক করে একটি পুলিশ বাসে রাখা হলে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভকারীরা সেই বাস ঘিরে প্রতিবাদ জানান।
এর আগে সংগঠনটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স হ্যান্ডেল থেকে জানানো হয়, রাজধানীতে পুলিশের কড়া নিরাপত্তার কারণে পূর্বনির্ধারিত প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তর থেকে সরিয়ে দিল্লি হাটে কর্মসূচি স্থানান্তর করতে বাধ্য হন তারা। কর্মসূচি ঘিরে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র আপত্তি তোলা হয়।
দিল্লির পাশাপাশি ভারতের অন্যান্য শহরেও বিরোধী নেতাদের ওপর ধরপাকড় ছড়িয়ে পড়েছে।
পাঞ্জাবের চণ্ডীগড়ে আম আদমি পার্টির (আপ) শীর্ষ নেতা ও দিল্লির সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী মানিশ সিসোদিয়াকে পুলিশ আটক করেছে বলে অভিযোগ করেছে তার দল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আটকের ভিডিও ও স্থিরচিত্র প্রকাশ করে আপ নেতারা ক্ষোভ জানিয়েছেন।
এক বার্তায় আম আদমি পার্টি দাবি করে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দমনপীড়ন চালিয়ে ভিন্নমতের কণ্ঠরোধ করতে পারবেন না। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দিকে ইঙ্গিত করে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ভোট চুরির দিন শেষ হয়ে এসেছে। তবে সিসোদিয়ার আটকের বিষয়ে স্থানীয় পুলিশের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে রাজনৈতিক দল ও ছাত্রনেতাদের ওপর এই পুলিশি অভিযানের তীব্র সমালোচনা করেছেন বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেসহ অন্যান্য নেতাদের আটক করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি—শরদচন্দ্র পাওয়ার (এনসিপি-এসসিপি) অংশের সংসদ সদস্য সুপ্রিয়া সুলে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন