জুলাই ১৫, ২০২৬, ১০:১১ পিএম
গত ৫০ বছরে বিশ্বজুড়ে পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৭২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের গড় মাত্রা ৫৪ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
চলতি বছরের জুলাই মাসে লন্ডনে ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব হিউম্যান রিপ্রোডাকশন অ্যান্ড এমব্রায়োলজির বার্ষিক সম্মেলনে এই গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। টেস্টোস্টেরন পুরুষদের বয়ঃসন্ধি, পেশি গঠন ও প্রজননক্ষমতার জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি হরমোন। বিশেষজ্ঞরা এই ধারাবাহিক পতনকে ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন।
ইসরাইলের হিব্রু ইউনিভার্সিটি-হাডাসা ব্রাউন স্কুল অব পাবলিক হেলথ অ্যান্ড কমিউনিটি মেডিসিনের অধ্যাপক হাগাই লেভিন জানিয়েছেন, পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্য বর্তমানে গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে। তার তথ্যমতে, গত পাঁচ দশকে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা অর্ধেকের বেশি কমেছে। প্রতি বছর গড়ে এক শতাংশেরও বেশি হারে হরমোনের এই পতন ঘটছে।
গবেষকদের মতে, জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও পরিবেশগত কারণগুলো এর পেছনে দায়ী হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস, পরিবেশদূষণ, এন্ডোক্রাইন-বিঘ্নকারী রাসায়নিক এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ ও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনো আলোচনা চলছে।
এর আগে একই গবেষক দল পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা নিয়ে গবেষণা চালিয়েছিল। সেখানেও উল্লেখযোগ্য হারে পতন লক্ষ্য করা গিয়েছিল। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক চান্না জয়সেনা বলেছেন, টেস্টোস্টেরন নিয়ে সাম্প্রতিক তথ্যগুলো অবহেলা করার সুযোগ নেই। বিভিন্ন গবেষণার ফল পর্যালোচনা করলে পুরুষদের প্রজননস্বাস্থ্যের অবনতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাই এখনই এ বিষয়ে সচেতন হওয়া ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন