শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

প্রকৃতির কাছে ফিরে মানুষ কি সত্যিই মুক্তি পেতে পারে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

প্রকৃতির কাছে ফিরে মানুষ কি সত্যিই মুক্তি পেতে পারে

ছবি : সংগৃহীত

শহুরে নাগরিক জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে প্রকৃতির কাছে ফিরে যাওয়ার প্রবণতা নতুন কিছু নয়। অনেকেই নির্জন পাহাড়ে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেন, আবার কেউ হয়তো নিজস্ব খামারে বিষমুক্ত ফসল ফলিয়ে স্বনির্ভর হতে চান। তবে আধুনিক সভ্যতার জটিল অর্থনৈতিক কাঠামো ছেড়ে কেবল প্রকৃতির সান্নিধ্যে পৌঁছালেই মানুষ সার্বিক মুক্তি পায় কি না, তা নিয়ে নতুন করে ভাবছেন চিন্তাবিদেরা। মার্কিন সাময়িকী দ্য নেশনে প্রকাশিত লেখক ড্যান সিনকিনের সাম্প্রতিক প্রবন্ধে এ বিষয়ে গভীর যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।

প্রকৃতির কোলে একাকী জীবন বেছে নিলেও মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা থেমে থাকে না। লেখক নিজের ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা টেনে দেখিয়েছেন যে তেইশ বছর বয়সে বন্য পরিবেশের সাথে পরিচিত হওয়ার পর তিনি আর্জেন্টিনার মেনদোজায় একটি পারমাকালচার খামারে কৃষিভিত্তিক জীবন শুরু করেছিলেন। আপেল চাষ, নিজস্ব সেচব্যবস্থা ও প্রাকৃতিক ঘরবাড়ি তৈরির মতো কাজে যুক্ত হয়েও তিনি বুঝতে পারেন যে দৈহিক শ্রমের চেয়ে চিন্তাশীল কাজই তাঁর বেশি সহজাত। সেখানে তিনি অস্টিন ওয়েলার্সের রচিত উপন্যাসের একটি চরিত্রের উদাহরণ যুক্ত করেন, যে চরিত্রটি সমাজে নিজের পরিচয় ভুলে নির্জন খামারে প্রকৃতির সাথে বিলীন হতে চেয়েছিল।

বাস্তবে ফসলের ক্ষতি, অবকাঠামো সংস্কারে হাজার হাজার ডলারের ব্যয় এবং স্বাস্থ্যসেবার বাধ্যবাধকতা মানুষকে বারবার প্রচলিত অর্থনীতির মুখোমুখি দাঁড় করায়। পরিবেশ গবেষক উইলিয়াম ক্রোননের বিশ্লেষণ টেনে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে বনভূমি কোনো সমাজ-বিচ্ছিন্ন পবিত্র জগৎ নয়, বরং তা মানুষের রাজনীতি, আদিবাসী ইতিহাস ও জটিল অর্থনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। পুঁজিবাদী বাজারব্যবস্থা বাতাস, মাটি বা সুপেয় পানিকে বিনামূল্যে প্রাপ্ত সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করলেও সেগুলোর প্রকৃত অর্থনৈতিক মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে পারে না। ফলে শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে পরিবেশবান্ধব হওয়া প্রশংসনীয় হলেও তা সামগ্রিক সংকট দূর করতে সক্ষম নয়।

সিনকিন নিজেই একপর্যায়ে গভীর প্রকৃতি ছেড়ে ফিরে এসেছেন সাহিত্যের জগতে, এবং বর্তমানে আটলান্টায় একটি নগরের দূষিত খালের পাশে পরিবার নিয়ে বাস করছেন। প্রকৃতিকে মানুষের বিপরীত কোনো অস্তিত্ব হিসেবে না দেখে আমাদের সামাজিক প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক চেতনার অংশ হিসেবে দেখাই এর প্রকৃত উপলব্ধি।