সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ঘন ঘন ভূমিকম্প নিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহর সতর্কবার্তা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ২৪, ২০২৫, ০৮:৫৫ পিএম

ঘন ঘন ভূমিকম্প নিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহর সতর্কবার্তা

জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ ঘন ঘন অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পকে কেবল ভূতাত্ত্বিক নড়াচড়ার ফল হিসেবে দেখতে নারাজ। তিনি এটিকে দেশের জনগণের প্রতি একটি গভীর সতর্কবার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সোমবার (২৪ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি বলেন

, হয়তো বড় কোনো বিপদ আসন্ন থাকতে পারে, যা সম্পর্কে আমরা এখনো অবগত নই। এই পরিস্থিতিতে তিনি জাগতিক প্রস্তুতির পাশাপাশি তাওবা বা আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি গ্রহণকে অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেন।

শায়খ আহমাদুল্লাহ দেশের ভৌগোলিক এলাকার জনঘনত্ব এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণের ভয়াবহতার দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তার মতে, অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা প্রতিটি অট্টালিকা যেন একেকটি সম্ভাব্য সমাধিসৌধ।

তিনি বিশেষজ্ঞ মহলের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যদি রাজধানী ঢাকায় ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত করে, তবে এক লক্ষের বেশি ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পূর্বাভাসকে তিনি অত্যন্ত ভীতিজাগানিয়া হিসেবে আখ্যায়িত করেন।এহেন ভয়াবহ ঝুঁকির বিপরীতে রাষ্ট্রীয় প্রস্তুতির অভাব নিয়েও তিনি মুখ খুলেছেন। তার মতে, আধুনিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্ধারকর্মীর সংখ্যা নগণ্য এবং বড় ধরনের উদ্ধারযুদ্ধ চালানোর মতো ভারী যন্ত্রপাতিও দেশে অপর্যাপ্ত।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, সীমিত সক্ষমতার অগ্নিনির্বাপক বাহিনী দিয়ে হাজার হাজার ধসে পড়া স্থাপনা সামলানো কেবলই কল্পনা। তিনি এসময় অপ্রয়োজনীয় মেগা প্রকল্প, নেতা-নেত্রীদের জন্য তোরণ নির্মাণ, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও ক্ষমতার প্রদর্শনীতে বিপুল অর্থ ব্যয়ের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দুর্নীতি ও অর্থপাচারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সম্পদের যে অপচয় হয়, সেই অর্থের সামান্য অংশও যদি দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি, ভূমিকম্প-প্রতিরোধী প্রযুক্তি, উদ্ধার সরঞ্জাম ও দক্ষ উদ্ধারকারী বাহিনীর প্রশিক্ষণে ব্যয় করা হতো, তবে সেটিই হতো সবচেয়ে যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ।

তবে কেবল রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতাকে দায়ী করে থেমে থাকা যথেষ্ট নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। যারা বাড়ি নির্মাণ করেন, তাদের সামান্য আর্থিক লাভ বা অদূরদর্শিতার বশবর্তী হয়ে নির্মাণ বিধিমালা উপেক্ষা করা বা প্রকৌশলীদের পরামর্শকে তুচ্ছজ্ঞান করার প্রবণতাকে তিনি 'সামাজিক আত্মহত্যা' হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বিপর্যয় পরবর্তী বিলাপের চেয়ে বিপর্যয়রোধী প্রস্তুতিই বুদ্ধিমান ও দায়িত্বশীল মানুষের কাজ। রাষ্ট্রের প্রতি তিনি উদ্ধারকাজ, চিকিৎসা, জরুরি আশ্রয়, খাদ্য ও পানীয়ের ব্যবস্থা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগব্যবস্থা—সবকিছু নিয়ে একটি সুস্পষ্ট জাতীয় রোডম্যাপ তৈরি করার আহ্বান জানান।

পরিশেষে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, প্রস্তুতি যেন কেবল ভৌত অবকাঠামোর ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ না থাকে। জাগতিক প্রস্তুতির পাশাপাশি আধ্যাত্মিক প্রস্তুতিও গ্রহণ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আল্লাহর রহমত ছাড়া কোনো পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিই নিরাপত্তা দিতে পারবে না। তিনি মনে করিয়ে দেন, প্রতিটি দুর্যোগ আমাদের প্রতি সতর্কবার্তা। দেশের সমাজের বিস্তৃত দুর্নীতি, জুলুম, অশ্লীলতা ও নৈতিক অবক্ষয় থেকে আমাদের গণতাওবা করা জরুরি