মার্চ ৭, ২০২৬, ১২:০৭ পিএম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত মন্তব্য করে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। শুক্রবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী নানা কর্মকাণ্ড এবং ঢাবিকেন্দ্রিক তথাকথিত কোরাম রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করেন।
তার এই বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের পরবর্তী রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি ও নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে যা নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের উদাহরণের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
সালাহউদ্দিন আম্মার তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে নেপালে গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া নেতারা সফলভাবে সরকার গঠন করতে পেরেছেন কারণ সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা কোনো বিশেষ ভাই-ব্রাদার কোরাম বিদ্যমান নেই। ঢাবিয়ানদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন যে তার এই মন্তব্যে সাধারণ মানুষ ও ছাত্রদের অনেকেই একমত হবেন।
তার মতে জুলাই পরবর্তী সময়ে ইমাম, মাস্টারমাইন্ড বা নয় দফার ঘোষক নির্ধারণ নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত মাতামাতি করা হয়েছে যা এক প্রকার পাগলামি ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে নেতৃত্ব নির্বাচনে মেধার চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও দলীয় কোরামকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রাকসুর এই নেতা জানান যে তিনি যখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটা বাতিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন করছিলেন তখন জাতীয় নেতারা ঢাবি থেকে সেই আন্দোলনের সমর্থনে একটি ডাক দেওয়ার সময় পাননি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আনাচে-কানাচে জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে বড় অংকের বাজেটে সাংস্কৃতিক আয়োজন হলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রস্তাব নিয়ে নেতাদের সাথে দেখা করতে তাকে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে। সালাহউদ্দিন আম্মারের দাবি অনুযায়ী তিনি চরমভাবে উপেক্ষিত ছিলেন যার অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি ঢাবিতে পড়াশোনা না করাকে দায়ী করেন।
অভ্যুত্থানের নেতাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন যে যোগ্য মানুষকে মূল্যায়ন না করে শুধুমাত্র ফ্যান-ফলোয়ার দিয়ে বিচার করার ফলে তারা অনেক লড়াকু সৈনিককে হারিয়েছেন। ব্যক্তিগত সম্পর্কের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষকে মূল্যায়ন করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন। সবশেষে নেপালের বর্তমান জেন-জি সরকারকে শুভকামনা জানানোর মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান ছাত্র রাজনীতির সীমাবদ্ধতাকে পরোক্ষভাবে নির্দেশ করেন। তার এই পোস্টটি আপলোড হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন