ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫, ১০:৫২ এএম
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক শোকবার্তায় তিনি বলেন।
বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীই ছিলেন না; তিনি ছিলেন বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর ইন্তেকালে জাতি তার এক মহান অভিভাবককে হারাল।
প্রধান উপদেষ্টা খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন মাইলফলক তুলে ধরেন। তিনি বলেন:
তিনবারের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ১৯৮২ সালে গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মাঠে এসে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তাঁর আপসহীন ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়।ড. ইউনূস উল্লেখ করেন যে, খালেদা জিয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনে কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত পাঁচটি পৃথক আসন এবং ২০০৮ সালে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সব কটিতেই জয়লাভ করেন তিনি।
১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর অর্থনৈতিক উদারীকরণ এবং মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালুর মাধ্যমে তিনি নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন।প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বার্তায় স্পষ্ট করে বলেন, রাজনৈতিক সাফল্যের কারণেই বেগম খালেদা জিয়া চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছিলেন। গত এক দশকের বেশি সময় ধরে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাঁকে দীর্ঘ কারাবাস ও নির্যাতন সহ্য করতে হয়েছে। শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে তিনি ছিলেন ‘সংগ্রাম ও প্রতিরোধের এক অনন্য প্রতীক’।
ড. ইউনূস জানান, খালেদা জিয়ার অবদান ও জনগণের আবেগ বিবেচনা করে চলতি মাসেই সরকার তাঁকে ‘রাষ্ট্রের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ (VIP) হিসেবে ঘোষণা করেছিল। তিনি মরহুমার শোকসন্তপ্ত পরিবার ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দেশবাসীকে শান্ত ও ধৈর্যশীল থাকার অনুরোধ করেছেন। একই সঙ্গে যার যার অবস্থান থেকে এই মহান নেত্রীর আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন