ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ১১:২৩ এএম
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি পুলিশ প্রশাসনও নজিরবিহীন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। ভোটের দিন মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের জন্য ২২ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়ে বিশেষ আচরণবিধি জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর।
সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচনের দিন কোনো পুলিশ সদস্য কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী বা তাদের সমর্থকদের প্রতি বিন্দুমাত্র পক্ষপাতমূলক আচরণ করতে পারবেন না।
ডিউটিতে থাকাকালীন ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রকাশ করা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক পোস্ট বা মন্তব্য করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি পরিস্থিতির চরম অবনতি না হলে বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে না গেলে কোনোভাবেই ভোটারের ওপর বলপ্রয়োগ বা লাঠিচার্জ করা যাবে না।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এবার পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে কিছু সুনির্দিষ্ট ও ব্যতিক্রমী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে ফুটপাত বা টং দোকানে বসে খাবার খাওয়া যাবে না। এমনকি জনসমাগমস্থলে দাঁড়িয়ে বাদাম, চানাচুর বা ভাপা পিঠার মতো মুখরোচক খাবার খাওয়া থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া কোনো প্রার্থীর এজেন্ট বা সমর্থকের কাছ থেকে খাবার, পানি বা কোনো উপঢৌকন গ্রহণ করা যাবে না। প্রার্থীদের সঙ্গে সেলফি তোলা বা ঘনিষ্ঠ আলাপচারিতায় মশগুল হওয়াকেও ‘অপেশাদার আচরণ’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
নিরাপত্তার স্বার্থে দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং ফেসবুকে সক্রিয় থাকাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত আলাপচারিতা বা নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো স্পর্শকাতর তথ্য বা ভিডিও শেয়ার করা যাবে না। প্রিসাইডিং কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া ভোটকক্ষে প্রবেশ করা বা কোনো ভোটারের সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করাও দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া পুলিশ সদস্যরা একত্রে জটলা পাকিয়ে উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরি বা ব্যক্তিগত গল্পগুজব করতে পারবেন না। ভোটের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে কোনো প্রকার আগাম মন্তব্য বা গুজব ছড়ানো থেকেও বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর আশা করছে, এই ২২ দফা নির্দেশনার যথাযথ পালন নির্বাচনের পরিবেশকে আরও সুশৃঙ্খল ও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন