ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
পৌরসভাগুলোতে রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগের কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে মন্ত্রী এই স্পষ্টীকরণ প্রদান করলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাসহ বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ করা হয়েছিল। ওই সময় অনেক জনপ্রতিনিধি আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়।
নাগরিক সেবা সচল রাখতে তখন বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মকর্তাদের সাময়িকভাবে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তবে আমলাদের মাধ্যমে পরিচালিত এই সাময়িক ব্যবস্থায় জনসেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ ওঠায় সরকার সিটি করপোরেশনগুলোতে রাজনৈতিক ও পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগের উদ্যোগ নেয়।বর্তমানে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মধ্যে আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে একজন নির্বাচিত মেয়র দায়িত্ব পালন করছেন।
বাকি ১১টি সিটি করপোরেশনে রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং ইতিমধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ ছয়টিতে পূর্ণকালীন প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তবে পৌরসভাগুলোর ক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। সেখানে বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোতেই কার্যক্রম চলবে বলে মন্ত্রীর বক্তব্যে পরিষ্কার হয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেছেন যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী ও জনবান্ধব করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে। সিটি করপোরেশনগুলোতে নেওয়া পরিবর্তনগুলো সফল হলে ভবিষ্যতে অন্য প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা হতে পারে, তবে আপাতত পৌরসভাগুলোতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা নতুন নিয়োগের পরিকল্পনা নেই।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন