মার্চ ৯, ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। সোমবার একদিনেই এই বিমানবন্দর থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের ৩৩টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বা বেবিচক জানিয়েছে, আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে আকাশপথ ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বিমান চলাচলেও। মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকেই এই সংকট শুরু হয়।
বেবিচকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত গত দশ দিনে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে মোট ৩৩৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করতে হয়েছে।
সোমবারের বাতিল হওয়া ৩৩টি ফ্লাইটের মধ্যে কুয়েত এয়ারওয়েজ, এয়ার অ্যারাবিয়া, গালফ এয়ার, কাতার এয়ারওয়েজ এবং এমিরেটস এয়ারলাইন্সের মতো নামী প্রতিষ্ঠানগুলোর ফ্লাইট রয়েছে। এছাড়া জাজিরা এয়ারওয়েজ, ফ্লাই দুবাই এবং দেশীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বেশ কিছু ফ্লাইটও বাতিলের তালিকায় রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী, যাদের একটি বড় অংশই মধ্যপ্রাচ্যগামী প্রবাসী শ্রমিক।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার করেছে যে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। এর ফলে ঢাকা থেকে এসব দেশের ওপর দিয়ে যাতায়াতকারী ফ্লাইটগুলো পরিচালনা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১ মার্চ সর্বোচ্চ ৪০টি এবং ২ মার্চ ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিদিন গড়ে ২৮ থেকে ৩৬টি করে ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে বেবিচক এবং এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষগুলো।
এমন পরিস্থিতিতে বিদেশের উদ্দেশে যাত্রা করা যাত্রীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এবং আকাশসীমা পুনরায় উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটছে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। এয়ারলাইন্সগুলো নিয়মিত যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন বা টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে কাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন