বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,

দেশের প্রধান তেল ডিপোগুলোতে সেনা মোতায়েনের নির্দেশ

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ৯, ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম

দেশের প্রধান তেল ডিপোগুলোতে সেনা মোতায়েনের নির্দেশ

তেল ডিপোর নিরাপত্তা

দেশের প্রধান প্রধান জ্বালানি তেল ডিপোগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সোমবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। মূলত জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থায় উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। 

মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে বিভিন্ন তেল ডিপো থেকে ডিলারদের আকস্মিক বর্ধিত চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করতে গিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গায় অবস্থিত প্রধান স্থাপনা সহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ডিপোগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিপণন কোম্পানিগুলো।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় যে সকল গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেনা মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে খুলনার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী, নারায়ণগঞ্জের গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুরের পার্বতীপুর এবং বরিশালের প্রধান ডিপোগুলো। 

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের জ্বালানি তেলের ডিপোগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং কেপিআইভুক্ত স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত। ফলে জরুরি ভিত্তিতে এগুলোর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিপণন কোম্পানিগুলোর স্থাপনাগুলোর সার্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের সরবরাহ চেইন আরও সুসংহত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এর আগে গত শনিবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বা বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান তেলের প্রধান ডিপোগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। তার স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক চিঠিতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। 

বিপিসির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবং কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা এড়াতে এই নিরাপত্তা জোরদার করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। বর্তমানে জ্বালানি তেলের মজুদ পর্যাপ্ত থাকলেও সরবরাহ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তা জনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাধারণ ডিলার ও অংশীজনদের মাঝে আস্থা তৈরি করবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।