মার্চ ১১, ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম
ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে দেশবাসীকে সর্বোচ্চ সচেতন থাকার এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১১ মার্চ) দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাগরিকরা সচেতন হলে এই মরণঘাতী রোগগুলো থেকে নিজেদের রক্ষা করা সম্ভব।
বিশেষ করে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে প্রতিটি পরিবারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান তিনি। বিশেষজ্ঞ ও কীটতত্ত্ববিদদের বরাত দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, সঠিক সময়ে প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় জানান যে, অতীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ সাধারণত জুন থেকে অক্টোবর মাসের বর্ষা মৌসুমে দেখা দিলেও বর্তমানে এর ধরণ পাল্টেছে। জনস্বাস্থ্যবিদদের তথ্য অনুযায়ী, এখন বছরের যেকোনো সময়েই মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারে।
এই বাস্তবতায় এডিস মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণে বাড়ির আশপাশের ড্রেন, ডোবা ও নর্দমা পরিষ্কার রাখার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, পরিত্যক্ত টায়ার কিংবা বাড়ির ছাদে তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে না দেওয়ার বিষয়ে তিনি কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, জমা পরিষ্কার পানিতেই এডিস মশা জন্মায়, তাই পানির ট্যাংকসহ সব ধরনের আধার ঢেকে রাখা জরুরি।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল সচেতনতা নয় বরং মাঠ পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে সরকার আগামী ১৪ মার্চ শনিবার থেকে দেশজুড়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, স্থানীয় প্রশাসন এই অভিযানের নেতৃত্ব দেবে। তবে একে একটি জনআন্দোলনে রূপ দিতে তিনি প্রতিটি এলাকার জাতীয় সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
তিনি নির্দেশ দেন যে, প্রতি সপ্তাহের শনিবার যার যার এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে নিজ নিজ বসতবাড়ি এবং আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখতে জনপ্রতিনিধিদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।সরকারের জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির মূল দর্শন ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’—এই কথাটি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চললে জনগণ মরণঘাতী জ্বর থেকে রক্ষা পাবে।
ব্যক্তিগত সুরক্ষার পাশাপাশি প্রতিবেশীদের সুরক্ষায় কাজ করাকে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে পালন করার পরামর্শ দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশা করেন যে, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই এডিস মশার প্রজনন উৎসগুলো ধ্বংস করা সম্ভব হবে। তিনি দেশবাসীকে বারবার মনে করিয়ে দেন যে, নিজের চারপাশ পরিচ্ছন্ন রাখাই হচ্ছে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন