রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

কবে হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন? যা বলছে মন্ত্রণালয়

জাতীয় ডেস্ক

মার্চ ৩০, ২০২৬, ০১:১৭ পিএম

কবে হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন? যা বলছে মন্ত্রণালয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচন

জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে দেশের সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের পর এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্থানীয় সরকারের অন্যান্য স্তরের নির্বাচন। বিশেষ করে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন শুরু হয়েছে। 

দীর্ঘদিন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা ও জবাবদিহিতার অভাব নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও সরকার ইতিমধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক বসিয়েছে, তবে স্থানীয় পর্যায়ের অন্যান্য নির্বাচনে সরকারের আগ্রহ বা অগ্রাধিকার কোন দিকে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা মেলেনি। 

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক প্রস্তুতি থাকলেও কোন স্তর দিয়ে ভোট শুরু হবে তা নিয়ে সরকারের ভেতরে কিছুটা দ্বিধা কাজ করছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, সরকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগে দেওয়ার কথা ভাবছে। তার মতে, তৃণমূল পর্যায়ের প্রকৃত রাজনৈতিক পরিস্থিতি বুঝতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগে হওয়া প্রয়োজন। তবে মন্ত্রণালয়ের ভেতরের কিছু অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় আগে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন করার বিষয়টিও উঠে এসেছে। এই নির্বাচনটি পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর এবং ঈদুল আজহার আগে কোনো এক সময়ে আয়োজনের প্রাথমিক চিন্তা ছিল। 

মন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং দাপ্তরিক আলোচনার এই ভিন্নতায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যেও কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা সচল রাখতে দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা।মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, উপজেলা ও পৌরসভাগুলোতে নতুন করে রাজনৈতিক প্রশাসক নিয়োগের বিষয়ে আপাতত কোনো সিদ্ধান্ত নেই। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনও এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন এবং নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তারাই এই দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন। 

পৌরসভা নির্বাচনের বিষয়ে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুম এড়ানোর জন্য এই নির্বাচনগুলো কিছুটা দেরিতে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ও মামলা সংক্রান্ত পৌরসভার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকার সবুজ সংকেত দিলেই নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হবে। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম জানিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন, তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন।

নির্বাচন কমিশনও স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচনগুলো নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, প্রশাসক দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় সরকার চালানো গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য শুভ নয়। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জবাবদিহিতা থাকে বিধায় জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা পায়। অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, প্রশাসক নিয়োগ একটি সাময়িক ব্যবস্থা মাত্র। 

স্থানীয় সরকার সক্রিয় না থাকলে তৃণমূলের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জনসেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। সব মিলিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যে অনেক ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হতে চলায় বছরের শেষ নাগাদ স্থানীয় নির্বাচনে ব্যাপক তোড়জোড় দেখা যেতে পারে।