জুন ২, ২০২৬, ০৯:২০ এএম
নতুন মেয়াদের সরকারের প্রথম জাতীয় বাজেটে দেশের উৎপাদনশীল খাত ও অর্থনীতির সামগ্রিক গতিশীলতা ধরে রাখতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এবার আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি কমিয়ে নিজস্ব খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানে বড় পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং শিল্প খাতের নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করতেই মূলত নীতিনির্ধারকেরা এই বিশেষ কৌশলগত উদ্যোগ গ্রহণ করছেন।বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক রূপরেখা অনুযায়ী নতুন বাজেটে নবায়নযোগ্য উৎসের প্রসারে এক যুগান্তকারী পথনকশা তৈরি করা হচ্ছে।
টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে মোট ১০,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
এই লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে বাস্তবায়নে রুফটপ সোলার প্যানেলসহ পরিবেশবান্ধব সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহারে কর রেয়াত ও শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করার জোর দাবি জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদেরা। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান মনে করেন যে শুল্ক কমানোর পাশাপাশি এই গ্রিন এনার্জি খাতের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা থেকে দেশীয় ভোক্তাদের সুরক্ষা দিতে বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্র বক্ষে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রমকে এই বাজেটে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ দেশের টেকসই শিল্পায়নের স্বার্থে এই খাতে যৌক্তিক সরকারি বরাদ্দ ও দীর্ঘমেয়াদী নীতিগত সহায়তার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন।
পাশাপাশি কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম সরকারি কোম্পানিগুলোকে সম্পূর্ণ মুনাফামুক্তভাবে পরিচালনা করে ভোক্তাদের ওপর থেকে মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমানোর পরামর্শ দেন। বৈশ্বিক জ্বালানি পণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই কঠিন সময়ে সাধারণ নিম্ন আয়ের মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম সহনীয় রাখাই এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় বাজেট চ্যালেঞ্জ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন