শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬,

বিনিয়োগে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম গন্তব্য হতে চায় ঢাকা

জাতীয় ডেস্ক

জুন ১৩, ২০২৬, ১০:৫৮ এএম

বিনিয়োগে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম গন্তব্য হতে চায় ঢাকা

জ্বালানি সংকটকে বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বড় বাধা বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম আসরের সভাপতি ডক্টর খলিলুর রহমান। তবে সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য একটি প্রতিযোগিতামূলক ও স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম বিনিয়োগ গন্তব্য হতে চায় বাংলাদেশ। 

বৈশ্বিক অর্থায়নকে আকৃষ্ট করতে সরকার এখন একটি নির্ভরশীল ও গঠনমূলক সহযোগিতা গড়ে তুলতে আগ্রহী বলে জানান তিনি।শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।রাজধানীর একটি বেসরকারি হোটেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তথা বিডার যৌথ উদ্যোগে ‍‍`বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনীতিক কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক সম্মেলন‍‍` অনুষ্ঠিত হয়। 

সেখানে ‍‍`ঝুঁকি মোকাবেলায় স্থিতিস্থাপকতার সদ্ব্যবহার‍‍` শীর্ষক অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এই চ্যালেঞ্জিং সময়ে আমাদের বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তিই হচ্ছে ‍‍`বাংলাদেশ ফার্স্ট‍‍`। দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বর্তমান প্রশাসন।

বৈশ্বিক ঝুঁকিগুলো সফলভাবে মোকাবেলায় তিনি প্রথাগত কূটনীতির বাইরে গিয়ে অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। দেশি-বিদেশি বড় বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে একটি স্বচ্ছ, নীতিগত এবং পূর্বাভাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করতে রাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রথাগত রপ্তানি খাতের বাইরে গিয়ে অর্থনীতিকে বহুমুখী করার তাগিদ দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সৃজনশীল শিল্প এবং ক্রীড়া খাতের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলোতে সুনির্দিষ্ট সরকারি নীতিমালা ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো হবে। এসব নতুন সম্ভাবনাকে বিশ্বমঞ্চে সফলভাবে তুলে ধরতে পারলে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তর সহজ হবে। এবারের সম্মেলনে জাতীয় উন্নয়ন কর্মসূচিকে সামনে রেখে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের অগ্রাধিকারগুলো নিয়ে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই আয়োজনটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের মধ্যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে একটি অর্থবহ সংলাপের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। দিনব্যাপী এই সম্মেলনে মোট তিনটি বিষয়ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রথম অধিবেশনে বাণিজ্যের নীতিগত দিক, দ্বিতীয় অধিবেশনে বিনিয়োগ ও অর্থায়ন এবং শেষ অধিবেশনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ নতুন প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি ও উদ্ভাবননির্ভর উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা মতবিনিময় করছেন।