জুন ১৪, ২০২৬, ০১:২৪ পিএম
অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস বা আইইপি প্রকাশিত গ্লোবাল পিস ইনডেক্স দুই হাজার ছাব্বিশের নতুন সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার চতুর্থ শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ। গত ৯ জুন প্রকাশিত এই বৈশ্বিক শান্তি সূচকে ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোকে পেছনে ফেলে বেশ খানিকটা এগিয়ে রয়েছে ঢাকা।
বিশ্বের প্রায় ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ জনসংখ্যাকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ১৬৩টি স্বাধীন রাষ্ট্র ও ভূখণ্ড নিয়ে এবার এই মর্যাদাপূর্ণ সূচকের ২০তম সংস্করণটি প্রকাশ করা হয়েছে।চলতি বছরের এই বৈশ্বিক তালিকায় ১৬৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৭তম।আইইপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পাঁচ স্কোরের মধ্যে বাংলাদেশের সার্বিক প্রাপ্ত স্কোর হচ্ছে ২ দশমিক ২২৬ এবং দেশটিকে মধ্যম শান্তির স্তরে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।
মূলত সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, চলমান অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাত এবং সামরিকীকরণ—এই তিনটি প্রধান ক্ষেত্রের ২৩টি ভিন্ন ভিন্ন সূচক ব্যবহার করে এই শান্তির হিসাব করা হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় এবারও সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশের শীর্ষ অবস্থানটি ধরে রেখেছে ভুটান এবং বৈশ্বিক তালিকায় ১৬তম স্থানে থাকা এই দেশটিই অঞ্চলের একমাত্র রাষ্ট্র যাদের উচ্চ শান্তির ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে। এছাড়া ৬৭তম বৈশ্বিক অবস্থান নিয়ে এ অঞ্চলে দ্বিতীয় স্থানে শ্রীলঙ্কা এবং ১১১তম স্থানে থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে নেপাল।
অন্যদিকে চলমান অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সূচকে ব্যাপক অবনতি হওয়ায় নিম্ন শান্তির মাত্রায় নেমে গেছে ভারত, দক্ষিণ এশিয়ায় তাদের অবস্থান পঞ্চম এবং বিশ্বে ১২৭তম। তালিকায় যথাক্রমে ১৫২ ও ১৫৭তম স্থানে থাকা পাকিস্তান ও আফগানিস্তান বরাবরের মতোই এই অঞ্চলের সবচেয়ে অশান্ত ও অস্থিতিশীল দেশ হিসেবে একেবারে নিচের দিকে অবস্থান করছে। বৈশ্বিকভাবে টানা ১৯ বছরের মতো বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশের শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছে ইউরোপের দেশ আইসল্যান্ড এবং তাদের ঠিক পরেই রয়েছে নিউজিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, স্লোভেনিয়া ও আয়ারল্যান্ড।
বিপরীতে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে কম শান্তিপূর্ণ দেশের তালিকায় সবার নিচে জায়গা হয়েছে রাশিয়ার, যার পরেই রয়েছে সুদান, ডেমোক্রেটিক ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অভ কঙ্গো, ইউক্রেন ও ইসরায়েল।জিপিআইয়ের এই বিশেষ প্রতিবেদনে চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাব্য মারাত্মক ঝুঁকির দিকটিও জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশকে মূলত রফতানিমুখী জ্বালানি আমদানিকারক দেশ হিসেবে চিহ্নিত করে বলা হয়েছে যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজির চড়া দাম ও বিশ্ববাজারে চাহিদার পতনের কারণে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেতে পারে।
সংকট যদি আরও ঘনীভূত হয় এবং হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হয়, তবে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির ১ দশমিক ৫ থেকে ২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। চরমভাবাপন্ন এই পরিস্থিতিতে প্রথম বছরেই বৈশ্বিক মোট দেশজ উৎপাদন শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে এবং এই মন্দার সবচেয়ে নির্মম শিকার হবে দক্ষিণ এশিয়ার আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলো।
তথ্যসূত্র: ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন