জুন ৩০, ২০২৬, ০৪:৩৭ পিএম
দেশের ব্যাংকিং খাতের মূল নীতি সুদহার ১০ শতাংশ সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রেখে নতুন অর্থবছর ২০২৬-২৭ এর প্রথমার্ধের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার দুপুরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই নতুন নীতিমালার বিস্তারিত রূপরেখা প্রকাশ করা হয়। দেশের সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতি সুসংহত করতে এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর মোস্তাকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে এই নতুন মুদ্রানীতির মূল কাঠামো ঘোষণা করেন।ঘোষিত নীতিমালায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং আমানত সুবিধা ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে নতুন মেয়াদে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতির সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রা ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এছাড়া আগামী দিনগুলোতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ শতাংশ। সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বলেন, দেশের কোনো কোনো ব্যাংকে অতিরিক্ত তারল্য জমা থাকায় তারা একচেটিয়াভাবে অস্বাভাবিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমানতকারী এবং ঋণগ্রহীতা—উভয় পক্ষের আর্থিক নিরাপত্তা ও যৌক্তিক সুবিধা নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট স্প্রেড সীমা কার্যকর করা হয়েছে।
আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরানোর বিষয়ে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে গভর্নর স্পষ্ট জানান যে কোনো ব্যাংক থেকে এক্সিট বা বিদায় সুবিধা পাওয়া মানেই চূড়ান্ত দায়মুক্তি নয়। খেলাপি ও অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা জোরদার করতে অর্থঋণ সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিল মামলা সর্বোচ্চ ছয় মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ সমাধান করার চিন্তাভাবনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এছাড়া দেশের সংকটে পড়া ইসলামী ব্যাংককে ব্যাংক খাতের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে গভর্নর তাঁর বক্তব্যে নিশ্চিত করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন