জুলাই ৯, ২০২৬, ১০:২৮ এএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার কৃষিকে সনাতনী ও শ্রমনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বের করে গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে একটি প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই খাতে রূপান্তরের লক্ষ্যে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।
দেশের কৃষি ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের নানা দিক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষিকে ডিজিটাল ও প্রযুক্তি নির্ভর করতে কৃষি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। কৃষক নিবন্ধন, কৃষক তথ্যভাণ্ডার, ডিজিটাল কৃষি সেবা, মোবাইলভিত্তিক আবহাওয়া তথ্য, বাজার তথ্য, কৃষি পরামর্শ এবং ই-এক্সটেনশন সেবার সম্প্রসারণ ও কৃষি সেবার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারি সেবা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সারাদেশে প্রায় দুই কোটি ৭৫ লক্ষ কৃষককে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, শ্রম সংকট মোকাবিলা এবং কৃষিকে লাভজনক করতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
আধুনিক কৃষি শিল্পের বিকাশে সরকার কৃষিতে রিমোট সেন্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অফ থিংস, ড্রোন প্রযুক্তি, জিআইএস, স্যাটেলাইট তথ্য, বিগ ডাটা এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে ফসলের স্বাস্থ্য ও ফলন পর্যবেক্ষণ, রোগবালাই শনাক্তকরণ, সুনির্দিষ্ট সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদন পরিকল্পনা অধিক কার্যকর ও বিজ্ঞানভিত্তিক হবে।
আধুনিক তথ্যনির্ভর কৃষি বা প্রিসিশন এগ্রিকালচার চালু করে উৎপাদন খরচ কমানো ও কৃষকের আয় বৃদ্ধি করা হবে। সুষম, নিরাপদ ও পুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষি খাতকে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। দেশের কোন এলাকায় কোন সময়ে কোন ফসল ভালো হবে, কী পরিমাণ সার লাগবে এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস ইত্যাদি সংক্রান্ত পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। রাসায়নিক সারের উপর নির্ভরতা কমিয়ে জৈব সার ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃষিকে জলবায়ু-স্মার্ট ও অভিযোজনক্ষম খাতে রূপান্তর করা হবে। সরকারের নানামুখী পদক্ষেপের ফলে কৃষি আরও উৎপাদনশীল, লাভজনক, রপ্তানিমুখী ও টেকসই খাতে পরিণত হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন