সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ০৮:৫১ পিএম
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং ও মাদক চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার কঠোর ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। শনিবার বিকেলে মোহাম্মদপুরের বছিলা পুলিশ লাইনসে নাগরিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান, এই এলাকায় কোনো ধরনের কিশোর গ্যাংয়ের অস্তিত্ব রাখা হবে না এবং কিশোর গ্যাং বলে কোনো শব্দও থাকবে না। অপরাধ দমনে কোনো ধরনের শিথিলতা না দেখানোর নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা কিশোর গ্যাং, মাদক কেনাবেচা ও ছিনতাইয়ের মতো তিনটি সমস্যাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন। কমিশনার জানান, গত তিন মাসের সঙ্গে তার আগের তিন মাসের পরিসংখ্যান তুলনা করলে অপরাধের এই ক্ষেত্রগুলোতে কিছুটা উন্নতির প্রমাণ পাওয়া যায় এবং ছিনতাই অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে কেবল পরিসংখ্যান দিয়ে মাঠের বাস্তবতা পরিমাপ না করে মোহাম্মদপুরকে পুরোপুরি অপরাধমুক্ত করার তাগিদ দেন তিনি। এই সমস্যাগুলো নির্মূলে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকলেও কেবল বাহিনীর ওপর নির্ভর না করে নাগরিকদের সংঘবদ্ধ প্রতিরোধের ওপর তিনি জোর দেন, যেখানে অতীতের প্রচেষ্টার কিছু ঘাটতি থাকার কথাও তিনি মেনে নেন।
মোহাম্মদপুর থানার আটটি বিটে পুলিশিং কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে তেজগাঁও বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন ডিএমপি কমিশনার। বিট কর্মকর্তাদের কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশের তৈরি করা তালিকা অনুযায়ী চিহ্নিত মাদক স্পট ও কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানাগুলোতে নিয়মিত অভিযানের তাগিদ দেওয়া হয়। বিশেষ করে রিকশা ও অটোরিকশার গ্যারেজগুলোতে তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, রাতে এসব গ্যারেজের ভেতরে সন্দেহভাজন হিসেবে যাকে পাওয়া যাবে তাকেই আটক করা হবে। এছাড়া বিশেষায়িত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন ও ঢাকা মহানগর পুলিশ যৌথভাবে এলাকায় প্রতিদিন সমন্বিত অভিযান চালাবে।
ছিনতাইকারীদের তৎপরতা রোধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়, কারও হাতে ছুরি, চাপাতি, আগ্নেয়াস্ত্র বা কোনো ধরনের দেশীয় অস্ত্র দেখা গেলে কিংবা ছিনতাইয়ের সময় হামলা চালালে প্রচলিত বিধান অনুযায়ী অস্ত্র প্রয়োগের অনুমতি দেওয়া হবে। এছাড়া এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে চন্দ্রিমা হাউজিংয়ে প্রায় পাঁচ কাঠা জমিতে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে এবং রায় অনুকূলে এলে সেখানে নিজস্ব উদ্যোগে স্থায়ী ক্যাম্প নির্মাণ করা হবে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন