অক্টোবর ৮, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে ভারতের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বাংলাদেশ সরকার দেশের স্বার্থে সর্বোচ্চটা আদায় করতে চাইবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে আন্তর্জাতিক আইনের শক্ত ভিত্তি এবং দেশের কোটি কোটি মানুষের অকুণ্ঠ আকাঙ্ক্ষা ও সমর্থন এই আলোচনায় ঢাকার অবস্থানকে গভীরভাবে শক্তিশালী করছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ সেমিনারে প্রশ্নের জবাবে তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন। পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা: তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক ওই সেমিনারে প্রতিমন্ত্রী জানান, অভিন্ন নদীর পানি ইস্যুতে সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত কার্যকর যোগাযোগ ও সংলাপ বজায় রাখা অপরিহার্য।
এই লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দিতে ইতিমধ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ। কমিটির কার্যক্রম গতিশীল করতে ভারতীয় পক্ষের প্রতিনিধিদের দ্রুত অন্তর্ভুক্তির জন্য নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিক নাম চাওয়া হয়েছে। দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী পানি বণ্টন চুক্তি নবায়ন প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা ভারতের কাছে তাদের প্রতিনিধিদের নাম চেয়েছি, যাতে আমাদের প্রতিনিধি দল তাদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ ও আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করতে পারে। এখন আমাদের মূলত নয়াদিল্লির উত্তরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
ভারতের পক্ষ থেকে ইতিবাচক ও গঠনমূলক সাড়া পাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এ বিষয়ে ভারতের আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যেতে পারে। এরপর দুই দেশের যৌথ আলোচনার পথ আরও বিস্তৃত হবে, যা পরবর্তী দফার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের পথকে সুগম করবে।
উভয় দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে আন্তরিক সহযোগিতার মানসিকতা থাকলে ফলপ্রসূ সমাধান সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
প্রতিমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব বজায় থাকলে আলোচনার মাধ্যমেই সব অমীমাংসিত জটিলতার বন্ধুত্বপূর্ণ ও টেকসই সমাধান খুঁজে বের করা সম্ভব। পানি বণ্টনের মতো সংবেদনশীল দ্বিপক্ষীয় বিরোধগুলোর নিষ্পত্তি পারস্পরিক কূটনীতি ও কার্যকর সংলাপের মধ্য দিয়েই অর্জন করতে হবে, যেখানে আন্তর্জাতিক নদী আইনের অবস্থানই হবে বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন