বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

অনলাইন কনটেন্টে অপতথ্য ছড়ানো রুখতে কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ার

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম

অনলাইন কনটেন্টে অপতথ্য ছড়ানো রুখতে কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ার

অনলাইন কনটেন্টে অপতথ্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইক, কমেন্ট ও ভিউ পাওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা দিন দিন চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডিজিটাল দুনিয়ায় ভাইরাল হওয়ার নেশায় একদিকে যেমন সমাজের ইতিবাচক অনুপ্রেরণার গল্প উঠে আসছে, অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়ছে অশ্লীলতা, গালাগালি এবং বিভ্রান্তিকর নানা তথ্য।

সমাজবিজ্ঞান ও সাইবার বিশ্লেষকরা বলছেন, ভার্চ্যুয়াল জগতের এই নেতিবাচক প্রভাব এখন কেবল বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা জাতীয় রাজনীতি ও সামাজিক শৃঙ্খলার ওপরও গভীর ক্ষত তৈরি করছে।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একদিকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের দৃষ্টান্তও রয়েছে।

ফরিদপুরের তরুণ উদ্যোক্তা সাইফুল ইসলাম যেমন নিজের ‘বিসমিল্লাহ এগ্রো’ খামারের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং কৃষি উদ্যোগের ইতিবাচক গল্প তুলে ধরে অন্য তরুণদের অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছেন। কিন্তু সবার উদ্দেশ্য সমান নয়।

অনেক তথাকথিত ইনফ্লুয়েন্সার ও কনটেন্ট নির্মাতা চটকদার ভিউ পাওয়ার জন্য হাস্যরসের নামে সামাজিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ উপাদান প্রচার করছেন। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এই সমাজ যদি বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়ে কিংবা মৌলিক কাঠামো ভেঙে যায়, তবে তথাকথিত এই নির্মাতাদের অস্তিত্বও আর থাকবে না। সমাজের সুস্থতার ওপরই তাদের প্রভাব টিকে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র কিংবা যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের হার বা সিপিএম অনেক কম।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্থানীয় দর্শকদের উদ্দেশ্যে নির্মিত কনটেন্টে প্রতি ১ হাজার ভিউয়ের বিপরীতে সাধারণত শূন্য দশমিক ২০ ডলার থেকে শূন্য দশমিক ৮০ ডলার পর্যন্ত আয় হতে পারে, যা দেশীয় মুদ্রায় আনুমানিক ২৫ টাকা থেকে ১০০ টাকার সমপরিমাণ।

ফলে বেশি ভিউ পাওয়ার সাথে সরাসরি বেশি আয়ের সুযোগ এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্র্যান্ডের স্পনসরশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা জড়িয়ে থাকে।

এই আর্থিক লোভের কারণেই নির্মাতাদের মধ্যে কে কত ফলোয়ার বাড়াতে পারল, কে কত টাকা আয় করল কিংবা কার জীবনযাত্রা কত ধনীদের মতো দেখাল—তা প্রদর্শনের এক অসুস্থ ও বেপরোয়া প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।

এই ভার্চ্যুয়াল প্রদর্শনেচ্ছা কেবল ব্যক্তি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং তৈরি করছে রাজনৈতিক ন্যারেটিভ ও বিভ্রান্তি।

সম্প্রতি অনলাইন ব্যক্তিত্ব সালমান মুক্তাদিরকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এর অন্যতম বড় উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।

এক ভিডিও বক্তব্যে তিনি দাবি করেছিলেন যে কারও তোষামোদি না করলে, কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থন না থাকলে কিংবা টাকা দিয়ে নিরাপত্তা কিনতে না পারলে সাধারণ মানুষের সাথে নিপীড়নমূলক ঘটনা ঘটে। এই বক্তব্যের জেরে তাৎক্ষণিকভাবে নেটিজেনদের মধ্যে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়।

পরবর্তীতে তদন্তে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র উঠে আসে।

মামলা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চরম অসত্য তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি স্পষ্ট করেন, যে ব্যক্তি মামলা করেছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছিল, তিনি প্রকৃতপক্ষে কোনো মামলাই করেননি।

প্রকৃতপক্ষে স্থানীয় একটি আবাসন প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মামলাটি দায়ের করেছিলেন।

সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে অপতথ্য ছড়ানোদের ছাড় না দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

তারা বলছেন, কনটেন্ট নির্মাণ বা ইনফ্লুয়েন্সার পরিচয়ের আড়ালে যারা সমাজে অস্থিরতা তৈরি করছে এবং রাষ্ট্রকে সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা জরুরি। ভার্চ্যুয়াল অঙ্গনে সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখতে বিষাক্ত রেষারেষি ও অশ্লীলতার বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি প্রত্যাশা করছেন সচেতন নাগরিকেরা।