মার্চ ১, ২০২৬, ১০:১৪ এএম
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সন্ধিক্ষণে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তারেক রহমান। এই দায়িত্ব কেবল একটি সাংবিধানিক পদ অলংকৃত করা নয়, বরং এটি জাতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণ এবং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতাগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে সমাধান করার এক ঐতিহাসিক সুযোগ।
বর্তমান নেতৃত্বের প্রতিটি সিদ্ধান্ত আগামী প্রজন্মের জীবনমান, রাষ্ট্রের টেকসই স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নতুন অবস্থান নির্ধারণে নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। একটি উন্নত ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের প্রধান শর্তই হলো সুশাসন এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা।
রাষ্ট্র যখন ব্যক্তিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে এসে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তির ওপর দাঁড়ায়, তখনই উন্নয়নের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হয়। শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বচ্ছ প্রশাসন এবং আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির মতো মৌলিক খাতগুলোতে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।
বিশেষ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান গ্রহণ করা এই মুহূর্তে রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রীয় দর্শন হওয়া জরুরি।মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। কেবল সনদমুখী বা পরীক্ষানির্ভর শিক্ষা কোনো জাতিকে প্রকৃত অর্থে সমৃদ্ধ করতে পারে না। নতুন নেতৃত্বের লক্ষ্য হওয়া উচিত নৈতিকতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা এবং পেশাদারিত্বের সমন্বয়ে একটি আধুনিক শিক্ষাকাঠামো গড়ে তোলা। শিক্ষক সমাজকে উপযুক্ত মর্যাদা ও স্বাধীনতা প্রদানের মাধ্যমেই মেধাভিত্তিক প্রশাসন ও নেতৃত্বের মান নিশ্চিত করা সম্ভব।
এর পাশাপাশি গবেষণা ও প্রযুক্তিকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বের তালিকায় শীর্ষে রাখতে হবে। যে দেশ গবেষণায় পিছিয়ে থাকে, তারা দীর্ঘমেয়াদে অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্প খাতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন করা গেলে উদ্ভাবনী জ্ঞান সরাসরি উৎপাদনে ভূমিকা রাখতে পারবে। একটি শক্তিশালী ও টেকসই অর্থনীতি গড়ার জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সহায়তা প্রদান এবং বিনিয়োগবান্ধব স্বচ্ছ কর ব্যবস্থা প্রবর্তন করা অপরিহার্য। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হলে তথ্যের সঠিক ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির সঠিক বিশ্লেষণ জরুরি।
কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়ন জাতীয় নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষিকে প্রযুক্তিনির্ভর ও লাভজনক খাতে রূপান্তর করতে হবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি শহরমুখী জনস্রোত নিয়ন্ত্রণ করবে। একইভাবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে কেবল হাসপাতাল নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীই জাতীয় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা পালন করে।
জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। দ্রুত ও ন্যায়সংগত বিচার ব্যবস্থা কেবল সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না, বরং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আস্থার পরিবেশ তৈরি করে। পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং পরিবেশ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার না দিলে সব অর্জনই জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে একটি বাস্তবমুখী ও জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি দেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে। কূটনীতি এখন কেবল রাজনৈতিক সম্পর্কের বিষয় নয়, এটি বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের প্রধান মাধ্যম। সবশেষে সামাজিক শৃঙ্খলা ও নৈতিক নেতৃত্বের প্রতিফলন ঘটানোই হবে নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। ক্ষমতা যখন দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়, তখনই রাষ্ট্র সত্যিকার অর্থে জনকল্যাণমুখী হয়ে ওঠে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই নতুন যাত্রায় যদি বিচক্ষণতা ও সততার সমন্বয় ঘটে, তবে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের একটি আদর্শ মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে। একটি সমৃদ্ধ ও ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার যে প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন