মে ৬, ২০২৬, ১০:০৮ এএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের জুলাই সনদ নিয়ে কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, সংস্কারের অজুহাতে নির্বাচন যেন আটকে না যায়, সে জন্যই বিএনপি জুলাই জাতীয় সনদে সই করেছিল। বুধবার সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশকে অবৈধ ও সংবিধানবহির্ভূত বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, সনদে সই করার পর যখন বাস্তবায়ন আদেশ জারি হয়, তখন বিএনপি গুলশানে সংবাদ সম্মেলন করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছিল। সেই সময় দলটি স্পষ্ট করেছিল যে, তারা এবং তাদের মিত্ররা সনদের বাইরে অন্য কিছু মানবে না।
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশ থেকে আসা কিছু বুদ্ধিজীবীর সংস্কার প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছিল। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিষয়টি প্রথমে আসে। পরে সিদ্ধান্ত হয় যে, নোট অব ডিসেন্ট বা ভিন্নমতসহই এই সনদ স্বাক্ষরিত হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সমর্থন বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার ছিল ভেতরে-বাইরে দুই দলের সমর্থনে। একদল ছিল যমুনার অভ্যন্তরে এবং আরেক দল ছিল যমুনার কিনারে।২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর ড. ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব মূলত ছাত্রদের দেন এবং উপদেষ্টামণ্ডলীতে তিনজন ছাত্র প্রতিনিধি রাখেন। এর আগে দীর্ঘ ১৭ বছর ভোটের অধিকারের জন্য আন্দোলন করেছিল বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল। এই সময়ে বিরোধী দলের বহু নেতাকর্মী গুম ও জেলের শিকার হয়েছিলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনকালে গণমাধ্যম, নারী ও জনপ্রশাসনসহ বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। পাশাপাশি ড. ইউনূসকে সভাপতি করে গঠন করা হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এই কমিশনের কার্যকরী প্রধান হিসেবে ছিলেন সাংবাদিকতা পেশার একজন ব্যক্তি। একপর্যায়ে ড. ইউনূস মন্তব্য করেছিলেন যে, দেশের মানুষ তাকে আরও ৫০ বছর ক্ষমতায় দেখতে চায়।
ওই সময়ে ছাত্রদের নিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংগঠন এনসিপি গঠন করা হয়। নির্বাচন বিলম্বিত করার লক্ষ্যে এনসিপি এবং জামায়াতকে পাশে পাওয়ার কৌশল নিয়েছিল সরকার। এই প্রক্রিয়ায় টিআইবি, সিপিডি ও সুজনের মতো সুশীল সমাজের একাংশ এবং কয়েকটি সংবাদপত্রের সমর্থন ছিল বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে।
তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজনৈতিক তৎপরতা চালায় দলটি। দেশের ভেতরে দ্রুত নির্বাচনের পক্ষে জনমত গঠনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে চলে বিএনপির কূটনৈতিক তৎপরতা। দলের এই দ্বিমুখী প্রচেষ্টার কারণেই শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন