রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ফুটবল বিশ্বকাপের মধুর উন্মাদনা যেন সহিংসতায় রূপ না নেয়

নুরুল্লাহ কামিল

জুন ২০, ২০২৬, ০৫:২২ পিএম

ফুটবল বিশ্বকাপের মধুর উন্মাদনা যেন সহিংসতায় রূপ না নেয়

ফুটবল বিশ্বকাপের পুরোটা সময় জুড়ে আমাদের বাংলাদেশ এক অনাবিল আনন্দ আর বিপুল আয়োজনে মেতে থাকে। বাসা-বাড়ির ছাদ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত গাড়ি, রাস্তার মোড়ের ফাঁকা জায়গা কিংবা অফিসের টেবিল—সবখানেই প্রিয় দলের ছোট-বড় পতাকার উজ্জ্বল উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। দলীয় জার্সিতে ছেয়ে যায় পুরো শহর, বের হয় আনন্দ মিছিল ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। 

চায়ের কাপে ঝড় তুলে চলে সমর্থকদের মধ্যকার নিজ দলকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার মধুর বিতর্কের লড়াই।তবে মুদ্রার অপর পিঠে এই মধুর উন্মাদনা মাঝে মাঝে ব্যক্তিগত রেষারেষি ও অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতায় রূপান্তরিত হয়।আমাদের দেশের ফুটবলপ্রেমী মানুষের একাংশ স্বভাবগতভাবেই কিছুটা অতি উৎসাহী আচরণ করে বসেন। প্রিয় দলকে সেরা প্রমাণ করার এই অন্ধ তাগিদে অনেকেই ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভার্চুয়াল কমেন্ট যুদ্ধের বাইরে এসে ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু করেন। 

কলামিস্ট এর ছবি

এই তুচ্ছ অহমিকা প্রদর্শন বা অগ্রহণযোগ্য আচরণ একসময় ছোটখাটো দ্বন্দ্ব থেকে বড় ধরনের সামাজিক দাঙ্গায় রূপ নেয়। কার পতাকা কত বড় কিংবা কোন দল অতীতে কাকে কত গোল দিয়েছে, এমন সব তুচ্ছ উস্কানিতে অসংখ্য সুন্দর সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়। এর জের ধরে বহু মানুষ হতাহত হন এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রাণহানির মতো অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনাও ঘটতে দেখা গেছে।বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে অনলাইন ও অফলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ে দেশের বহু তরুণ ও সাধারণ মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। 

উঁচু স্থানে প্রিয় দলের পতাকা বাঁধতে গিয়ে উপর থেকে পড়ে হাত-পা ভাঙা কিংবা বৈদ্যুতিক শকে মৃত্যুর ঘটনাও নিয়মিত সংবাদের শিরোনাম হচ্ছে। এমনকি নিজের প্রিয় দল খেলায় হেরে গেলে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার চরম অপমানে কোনো কোনো সমর্থক আত্মহত্যার পথও বেছে নেন। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ও হৃদয়বিদারক ঘটনা প্রতিরোধে এখনই সমাজজুড়ে ব্যাপক সচেতনতা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

যেকোনো সুস্থ বিতর্ক সহিংসতায় রূপ নেওয়ার আগেই সমাজের সচেতন অংশকে দায়িত্ব নিয়ে তা থামাতে হবে। ফুটবলপ্রেমী মানুষের এই উত্তেজনা যেন কেবল উৎসবের পরিচ্ছন্ন গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রিয় দল হারুক কিংবা জিতুক, মাঠের অযাচিত বিরোধের কারণে যেন বাস্তব জীবনের কোনো প্রিয় মানুষকে হারাতে না হয়, সেদিকে সবার সজাগ দৃষ্টি রাখা উচিত।