জুলাই ১৫, ২০২৬, ১০:২১ পিএম
দেশে শিক্ষিত বেকারত্বের মূল কারণ মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা এবং তরুণদের বাস্তবমুখী দক্ষতার অভাব। দক্ষতা অর্জন না করে কেবল সরকারি চাকরির আশায় ত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত বসে থাকার মানসিকতা তরুণদের পিছিয়ে দিচ্ছে।শুধু প্রাতিষ্ঠানিক সনদ দিয়ে এখন আর চাকরি মেলে না।বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা সৃজনশীলতার বদলে শিক্ষার্থীদের মুখস্থ করতে বাধ্য করে।
ছোটবেলা থেকেই ক্লাসে প্রশ্ন করার সুযোগ না পাওয়ায় তরুণদের মানসিক বিকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শূন্য থেকে সাত বছর বয়সের মধ্যে একটি শিশুর মস্তিষ্ক সবচেয়ে বেশি তথ্য ধারণ করতে পারে। কিন্তু সেই সময়ে তাদের প্রকৃত জীবনমুখী শিক্ষা দেওয়া হয় না। ফলে স্নাতকোত্তর পাস করার পরও একটি বড় অংশের তরুণের কম্পিউটারে সাধারণ কাজের কোনো ধারণা থাকে না।
বেকারত্ব ঘোচাতে অনেকেই কোনো পূর্বপ্রস্তুতি বা আর্থিক জ্ঞান ছাড়াই ব্যবসায় নেমে পড়েন। ব্যাংক থেকে বিশাল অঙ্কের ঋণ নিয়ে ব্যবসা শুরু করা এবং সেই টাকা ব্যক্তিগত বিলাসবহুল কাজে খরচ করার প্রবণতা সমাজে প্রকট। এর পরিণতি হিসেবে প্রথম দুই থেকে তিন বছরের মধ্যেই প্রায় আশি শতাংশ নতুন ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়ে।ব্যবসায় সফল হতে হলে সবার আগে বিপণন বা মার্কেটিং কৌশল গভীরভাবে বুঝতে হবে। সঠিক বিপণনের অভাবেই একসময়ের জনপ্রিয় সাবান ব্র্যান্ড `অ্যারোমেটিক` বাজার থেকে হারিয়ে গেছে, আবার `অলটাইম`-এর মতো বেকারি ব্র্যান্ড শক্তিশালী বিপণনের জোরে আধিপত্য বিস্তার করেছে।
বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন শুধু সেরা দক্ষ লোক নিয়োগ দেয়। জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নিয়োগ প্রক্রিয়ার উদাহরণ এখানে টানা যায়। প্রতিষ্ঠানটি হাজারো সাধারণ কর্মীর বদলে মাত্র কয়েকজন সেরা প্রকৌশলী নিয়ে শতকোটি ডলারের সম্পদে পরিণত হয়েছে। পাঁচজন সাধারণ কর্মীর চেয়ে একজন যোগ্য কর্মীর উৎপাদনশীলতা অনেক বেশি।
আর্থিক সংকটের কারণে যেন কোনো শিক্ষার্থীর বিজ্ঞান পড়া বন্ধ না হয়, সে জন্য মিতু একাডেমি শিগগিরই `এক টাকার স্কুল` চালু করতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে অত্যন্ত স্বল্প খরচে গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত ছেলেমেয়েরা হাতে-কলমে বিজ্ঞান শেখার সুযোগ পাবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন