জানুয়ারি ২০, ২০২৬, ১১:০২ পিএম
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ২৫৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। মঙ্গলবার দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফের পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়।
নির্বাচন কমিশনের বাছাইপর্ব এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কিছু আসনে প্রার্থী প্রত্যাহারের পর এখন ২৫৯টি আসনে ‘হাতপাখা’ প্রতীকের প্রার্থীরা চূড়ান্তভাবে লড়াইয়ে থাকছেন।
বাকি ৩২টি আসনে দলটি আদর্শিক বিবেচনায় অন্য কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছিল ইসলামী আন্দোলন।
দলটির মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান তখন জানিয়েছিলেন, ইসলামের মৌলিক নীতির প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামীর অস্পষ্ট অবস্থান এবং রাজনৈতিক আস্থাহীনতার কারণেই তারা এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত এখন বিদ্যমান প্রচলিত আইনেই দেশ পরিচালনার কথা বলছে, অথচ দেশের বিদ্যমান ব্যবস্থার পরিবর্তনের লক্ষ্যেই ইসলামী আন্দোলন রাজনীতি করে আসছে। নীতির প্রশ্নে আপস না করতেই তারা এই বড় জোট থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে।
জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলে মাওলানা আতাউর রহমান বলেন, জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্য তাদের মধ্যে সংশয় তৈরি করেছে। বিশেষ করে বিএনপির সাথে জাতীয় সরকার গঠনের পরিকল্পনা এবং শরিয়াহ আইন নিয়ে অস্পষ্টতা ইসলামী আন্দোলনের তৃণমূল কর্মীদের ব্যথিত করেছে। তিনি দাবি করেন, জামায়াত একসময় ‘আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসন’ স্লোগান দিলেও এখন ক্ষমতার লোভে সেই আদর্শ থেকে সরে যাচ্ছে।
এছাড়া জামায়াত নেতারা বিদেশি প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করেছেন যে তারা ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন কার্যকর করবেন না—এমন খবর শোনার পরই ইসলামী আন্দোলন তাদের সাথে সমঝোতার পথ বন্ধ করে দেয়।ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এই এককভাবে ২৫৯ আসনে লড়াইয়ের ঘোষণা নির্বাচনী মাঠে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে। দলটির নেতারা বলছেন, তারা কেবল ক্ষমতার জন্য নয় বরং একটি স্থায়ী ও টেকসই পরিবর্তনের জন্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।
তাদের প্রার্থীরা সারাদেশে ইতোমধ্যে প্রচার-প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধ না হওয়ায় অনেক আসনেই এখন বহুমাত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সৃষ্টি হবে যা সাধারণ ভোটারদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে। এখন দেখার বিষয়, একক শক্তিতে মাঠে নেমে হাতপাখা প্রতীক ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন