মার্চ ৬, ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রাপ্ত ভোটের বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করা বিএনপি মোট ৩ কোটি ৭৪ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯৪টি ভোট পেয়েছে। যা মোট সংগৃহীত ভোটের ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২১১টি আসনে জয়লাভ করা দলটি জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান করছে।
অন্যদিকে প্রথমবারের মতো সংসদীয় রাজনীতিতে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া জামায়াতে ইসলামীও বড় অংকের ভোট সংগ্রহ করেছে। দলটির প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ২ কোটি ৩৮ লাখ ২৫ হাজার ২৫৯টি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৪৩ হাজার ৭৩৫টি। জামায়াত মোট ভোটের ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ সংগ্রহ করে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির জানান দিয়েছে। এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভূমিকাও ছিল লক্ষণীয়।
২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে মোট ৪৩ লাখ ৩৯ হাজার ৮৩৪ ভোট পেয়েছেন যা মোট ভোটের ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এছাড়া নতুন দল হিসেবে আলোচনায় আসা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২২ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে রাজনৈতিক মহলে চমক সৃষ্টি করেছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট নিজেদের ঝুলিতে ভরেছে।
তবে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতার অন্যতম অংশীদার বা প্রধান বিরোধী দল হিসেবে থাকা জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি এবার নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। ১৯৯টি আসনে প্রার্থী দিয়েও দলটি মাত্র ৬ লাখ ৬৯ হাজার ৮২টি ভোট সংগ্রহ করতে পেরেছে যা মোট ভোটের এক শতাংশের চেয়েও কম। এছাড়া গণ অধিকার পরিষদ ও এবি পার্টি দুই লাখের বেশি ভোট পেলেও ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম এবং মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্যর মতো দলগুলো ১ হাজার থেকে ১০ হাজার ভোটের বৃত্তেই সীমাবদ্ধ ছিল। নির্বাচন কমিশনের এই পরিসংখ্যান দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর বর্তমান জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থনের একটি পরিষ্কার চিত্র তুলে ধরেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন