এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ১১:৪১ পিএম
জুলাই আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম তাঁর দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের কিছু তিক্ত ও নেপথ্য অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন। বুধবার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন যে, উপদেষ্টা থাকাকালীন সময়ে নিজের এলাকার উন্নয়নের জন্য সহকর্মী অন্য উপদেষ্টাদের কাছে গিয়েও তিনি কোনো কার্যকর সহযোগিতা পাননি।
মাহফুজ আলমের দাবি, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রবল চাপ ও সিদ্ধান্তের কারণেই ওই উপদেষ্টারা তাঁকে বা তাঁর এলাকাকে সহায়তা করা থেকে বিরত ছিলেন।
ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর সাম্প্রতিক আবেগঘন বক্তব্য দেখে তাঁর নিজের পুরনো স্মৃতির কথা মনে পড়েছে। তিনি জানান, তাঁর নিজ এলাকা রামগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুরের উন্নয়নের লক্ষে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ৪ থেকে ৫ জন উপদেষ্টার সঙ্গে একাধিকবার দেখা করেছেন এবং দাপ্তরিকভাবে ডিও লেটারও দিয়েছেন।
তবে রাজনৈতিক মেরুকরণের কারণে সেসব উন্নয়ন প্রস্তাব বাস্তবায়নে কেউ এগিয়ে আসেনি। মাহফুজ আক্ষেপ করে লেখেন যে, হাসনাত আব্দুল্লাহ এলাকায় মুখ দেখাতে না পারার যে যন্ত্রণার কথা বলছেন, তাঁর ক্ষেত্রে সেই মুখ ঢেকে দেওয়ার কাজটি করেছিলেন তাঁরই তৎকালীন সহকর্মীরা।নিজের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে মাহফুজ আলম একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন।
তিনি জানান, যে মাদ্রাসায় তিনি দীর্ঘ আট বছর পড়াশোনা করেছেন এবং তাঁর বাবা আওয়ামী লীগ কর্তৃক বেদখল হওয়ার আগে ১৫ বছর পরিচালনা করেছিলেন, সেই প্রতিষ্ঠানটি আজও এমপিওভুক্ত হতে পারেনি। মাহফুজ আলমের দাবি, তিনি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা করার কারণেই এই বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে। অথচ সেই রাজনৈতিক দলটি নাকি তখন সরাসরি ক্ষমতায় ছিল না বলে দাবি করা হয়। এ বিষয়টি নিয়ে তিনি তীব্র বিদ্রুপ ও বিস্ময় প্রকাশ করেন।
পোস্টের শেষ অংশে মাহফুজ আলম ব্যঙ্গাত্মক সুরে নিজেকে ‘অযোগ্য উপদেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি মনে করেন, পর্দার আড়ালে অন্তর্বর্তী সরকার কীভাবে পরিচালিত হতো এবং সেখানে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ কতটা জটিল ছিল, তার অনেক সত্য এখনো সাধারণ মানুষের কাছে অজানা। মাহফুজ আলমের এই বিস্ফোরক মন্তব্য ও অভিযোগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে তাঁর এই পর্যবেক্ষণকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন