এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম
বিপ্লবের পরও দেশে চাঁদাবাজি অব্যাহত থাকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে চাঁদাবাজদের দলমত নির্বিশেষে নির্মূলের আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদ সদস্য ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এত বড় একটা বিপ্লবের পরও এখনো চাঁদাবাজি হচ্ছে। চাঁদাবাজ কোনো দলের হতে পারে না।
নিজের স্বচ্ছতা তুলে ধরে তিনি বলেন, চাঁদা আমি নিলে আমার হাতেও হ্যান্ডকাফ পরান। আমরা এই সংসদ থেকে শপথ নিই, আমরা তাদের এই বাংলাদেশ থেকে নির্মূল করব। দেশ পরিচালনায় অতীতে যারা ছিলেন, তারা সততার সঙ্গে কাজ করলে দেশ ৫৪ বছরে আরও এগিয়ে যেত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় বর্তমানে যে অর্থ দেওয়া হয় তা ফকিরের ভিক্ষার মতো। তিনি এই খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতেও বিশেষ নজর দেওয়ার দাবি জানান। তাঁর মতে, ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় অনেকেই অন্যের দোষ দেখেন কিন্তু নিজের দোষ দেখতে পান না।
তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন অতি দ্রুত দেখতে চাই। এ নিয়ে মানুষ এখন কথা শুনতে শুনতে ক্লান্ত, তারা এখন বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায়। এক্ষেত্রে কোনো বিদেশি শক্তির চোখ রাঙানি পরোয়া না করার জন্য তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিস্তা পাড়ের মানুষের দুর্দশা নিরসনে দ্রুত কাজের ওপর তিনি জোর দেন।
নিজের নির্বাচনী এলাকা মিরপুরের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মিরপুর দেখে মনে হয় এটি রাজধানীর একটি ছিটমহল। সেখানে ছোট্ট এলাকায় খালের অব্যবস্থাপনা এবং রাস্তার ওপর ময়লার ভাগাড়ের বর্ণনা দেন তিনি। দুই মাসে সব সমস্যার সমাধান আশা না করলেও সংসদ সদস্য হিসেবে সেখানকার মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরা নিজের দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সংবিধান ও আন্দোলন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যতদিন সংবিধান আছে ততদিন পর্যন্ত আন্দোলন করা যেতে পারে, তবে বিদ্রোহ করা যাবে না। তিনি ৭২-এর সংবিধানকে সরাসরি আঁকড়ে থাকার সমালোচকদের মনে করিয়ে দেন যে, এই সংবিধান পরিবর্তন করে গেছেন জিয়াউর রহমান। পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তিনি তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশের সীমাহীন বন্ধুর প্রয়োজন আছে, কিন্তু একজনও প্রভুর দরকার নেই।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন