রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি চরমোনাই পীরের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ৪, ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম

শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি চরমোনাই পীরের

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের নির্মোহ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। সোমবার (৪ মে) ৫ মে ‘ঐতিহাসিক শাপলা দিবস’ উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই দাবি জানান।চরমোনাই পীর তাঁর বিবৃতিতে বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকায় যে ঘটনা ঘটেছিল তা আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক বর্বরোচিত ও কলঙ্কময় অধ্যায়। 

সেদিন শাপলা চত্বরে অবস্থান করা নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর রাষ্ট্রের পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী যেভাবে সশস্ত্র অভিযান চালিয়েছিল, তার নজির ইতিহাসে বিরল। তিনি উল্লেখ করেন, শাপলা চত্বরে রাত্রিযাপনকারী শিক্ষার্থীদের অধিকাংশের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না এবং তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধের কোনো পূর্ব ইতিহাসও ছিল না।

মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম অভিযোগ করেন, তৎকালীন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ইসলাম, মাদ্রাসা ও ইসলামপন্থার প্রতি বিদ্বেষ থেকে এই অভিযান পরিচালনা করেছিল। 

তিনি দাবি করেন, এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগের স্বৈরতন্ত্রের শিকড় আরও গভীরে প্রোথিত হয়, যার পরিণাম জাতিকে পরবর্তী ১১ বছর ভোগ করতে হয়েছে। এই অভিযানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বহু নেতাকর্মীও হতাহত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।বিবৃতিতে চরমোনাই পীর সে সময়কার রাজনৈতিক সংগঠন, বুদ্ধিজীবী এবং সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে পুনরায় বিচার-বিশ্লেষণের আহ্বান জানান। 

তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রের সেই কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তৎকালীন বুদ্ধিজীবী শ্রেণি ও গণমাধ্যম সরকারকে প্রশ্নের মুখোমুখি করেনি, বরং পরোক্ষভাবে বৈধতা দিয়েছে। যে কোনো ঘটনাকে বস্তুনিষ্ঠভাবে দেখতে না পারার এই ব্যর্থতাই বিগত স্বৈরতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করেছিল বলে তিনি দাবি করেন।

রেজাউল করীম তাঁর বিবৃতিতে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শাপলা চত্বরে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন এবং আহত হয়েছেন, তাঁদের জাতীয় বীরের স্বীকৃতি দিয়ে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ ছাড়া শাপলা চত্বরকে কেন্দ্র করে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার দাবি জানান তিনি। শাপলা হত্যাকাণ্ডের প্রতি প্রতিবাদ ও ঘৃণা জাগ্রত রাখতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই দিনটিকে স্মরণ করার জন্যও তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।