রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হামে প্রতিটি ছোট্ট সোনামণির মৃত্যুর দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে: ফুয়াদ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১৩, ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম

হামে প্রতিটি ছোট্ট সোনামণির মৃত্যুর দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে: ফুয়াদ

এবি পার্টির জরুরি সংবাদ সম্মেলন।

দেশে সাম্প্রতিক হামের প্রাদুর্ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সর্বদলীয় বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে জরুরি টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, প্রতিটি শিশুর মৃত্যুর দায় রাষ্ট্রকে নিতে হবে এবং এই দায় থেকে কেউ মুক্ত নয়।

বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর বিজয় নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি হামের সংকটকে রাজনৈতিক দোষারোপের হাতিয়ার না বানিয়ে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, করোনাকালে শহরকেন্দ্রিক উচ্চবিত্ত ও বয়স্ক জনগোষ্ঠী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বর্তমান হাম পরিস্থিতিতে মূলত দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন শুধু দরিদ্র পরিবারের শিশুরাই হামে আক্রান্ত হচ্ছে এবং এর পেছনে পরিকল্পিত কোনো ভাইরাস বিস্তার বা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা রয়েছে কি না। 

এ বিষয়ে নিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের দাবি জানান তিনি।সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০২৫ সালে স্বাস্থ্য সহকারীদের আন্দোলন এবং মাঠপর্যায়ে তথ্য আপলোডে অনিয়মের কারণে হামের টিকাদান কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। অতীতে সরকারি তথ্যে টিকাদানের হার অতিরঞ্জিত করে দেখানো হয়েছিল বলে দাবি করে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, বাস্তব পরিস্থিতি দীর্ঘদিন আড়ালে থাকায় আজ এই প্রাদুর্ভাব বড় আকার ধারণ করেছে। হামের হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের জন্য ৯৫ শতাংশ টিকাকভারেজ প্রয়োজন হলেও বাংলাদেশ এখনও সেই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি।

বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে প্রায় ৩৪ শতাংশের বয়স ৯ মাসের নিচে বলে সংবাদ সম্মেলনে তথ্য দেওয়া হয়। এর পেছনে মায়েদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার অভাব এবং পুষ্টিহীনতাকে দায়ী করা হয়। ব্যারিস্টার ফুয়াদ জানান, বর্তমানে দেশে প্রায় ২ কোটি ৯ লাখ ডোজ হামের টিকা মজুত রয়েছে এবং জরুরি ক্যাচ-আপ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে জাতীয় পর্যায়ে টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্বাস্থ্যখাতকে রাজনৈতিক সংঘাতের বাইরে রেখে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কাজ করতে হবে। তিনি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের দেশের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধ্য করার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে দেশবাসীকে যেকোনো ধরণের অপপ্রচার থেকে সতর্ক থেকে সময়মতো শিশুদের টিকা দেওয়ার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম এফসিএ, শ্রমিক বিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন এবং যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকন। সংবাদ সম্মেলন শেষে দলীয় নেতৃবৃন্দ হাম প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।