জুন ১৫, ২০২৬, ০৮:০৩ পিএম
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির। শক্তিশালী আইনি নথিপত্র, নির্ভুল তথ্য উপস্থাপন এবং উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা নিশ্চিত করা গেলে তাকে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। সোমবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ বিষয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী পোস্ট দেন তিনি।
বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সরাসরি কোনো কার্যকর প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই।আইনজীবী শিশির মনির জানান, ২০১৪ সালে দুই দেশের মধ্যে সই করা নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং বন্দি বিনিময় চুক্তি বিচারিক সহযোগিতার একটি ভিত্তি তৈরি করেছে। চুক্তি না থাকলেও সরকারের হাতে এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর ধারা ৪ অনুযায়ী প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনের অধীনে গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠাতে হবে।
প্রত্যর্পণ আবেদনের সঙ্গে আদালতের পরোয়ানা, অভিযোগপত্র, অভিযুক্তের পরিচয় ও অপরাধের বিবরণসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংযুক্ত করা আবশ্যক। তিনি উল্লেখ করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আদালত যাচাই করবে অপরাধটি তাদের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য কি না, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না এবং অভিযুক্ত দেশে ফিরে ন্যায়বিচার পাবেন কি না।
অতীতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ব্যবহার করে দুবাই থেকে আসামি ফিরিয়ে আনার সফল উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।বেনজীর আহমেদের সফল প্রত্যর্পণ মূলত নির্ভুল আইনি নথি এবং ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপরই নির্ভর করছে। বাংলাদেশ এই ক্ষেত্রে সফল হতে পারলে তাকে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে বলে মত দেন এই আইনজীবী।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন