জুলাই ২৬, ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলনে সিলেটের রাজপথে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারানো দৈনিক নয়া দিগন্তের সাবেক ব্যুরো প্রধান ও দৈনিক জালালাবাদের সাংবাদিক এটিএম তুরাব হত্যার দুই বছর পার হলেও বিচার প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
রোববার (২৬ জুলাই) সকালে সিলেটের বিয়ানীবাজার পৌর শহরের ফতেহপুর প্রাঙ্গণে গিয়ে শহীদ সাংবাদিক তুরাবের স্মৃতিস্থলে বিশেষ মোনাজাত শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই দাবি জানান।শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব শেষ করে বিরোধীদলীয় নেতা শহীদ তুরাবের বাসভবনে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আত্মোৎসর্গকারী সাংবাদিক তুরাবদের রক্তের বিনিময়েই আজ দেশ স্বৈরাচার ও চরম ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্ত হয়েছে।
কিন্তু অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত যে দুই বছর অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু করা যায়নি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বজায় থাকলে ভবিষ্যতে তুরাবের মতো সাহসী ও সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিক তৈরি হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন। দেশে সংবাদকর্মীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে এই মামলার দ্রুত সুরাহা হওয়া অপরিহার্য।
শহীদ সাংবাদিকের বড় ভাই আবু আজরফ মোহাম্মদ জাবুর সহ পরিবারের স্বজনদের খোঁজখবর নিয়ে তিনি তাঁদের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা উল্লেখ করেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই এই হত্যাকাণ্ডের সঠিক শাস্তি হতে হবে। বর্তমান সরকার সঠিক সময়ে বিচারকাজ সম্পন্ন করবে কি না তা নিয়ে সংশয় থাকলেও পরকালে পরম সৃষ্টিকর্তার বিচারে ন্যায়বিচার অর্জিত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উক্ত মোনাজাতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী প্রধান মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা প্রধান মাওলানা হাবিবুর রহমান, জেলা সম্পাদক জয়নাল আবেদীন এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বিয়ানীবাজারে সফরকালে প্রবীণ স্বজন ও পরিচিত ব্যক্তিত্বদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে দোয়া করে তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন ডা. শফিকুর রহমান।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন