আগস্ট ৯, ২০২৫, ০৩:১৬ পিএম
জুলাই মাসে বাংলাদেশে যে গণআন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল, তা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই আন্দোলনের মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে। কিন্তু এই আন্দোলন কীভাবে সংগঠিত হয়েছিল এবং এর পেছনের কৌশলগুলো কী ছিল, তা নিয়ে জনমনে আগ্রহ রয়েছে। সম্প্রতি, এই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এক সাক্ষাৎকারে সেই কৌশলগুলো নিয়ে কথা বলেছেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জুলাই গণআন্দোলনের সাফল্যের পেছনের কৌশলগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল সাধারণ মানুষকে একসূত্রে বেঁধে আনা, যেখানে অপরিচিত মানুষ একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
আখতার হোসেন বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল একটি গণতান্ত্রিক ও যৌক্তিক দাবি। সেই আন্দোলনের সময় সরকার কোটা পুরোপুরি বাতিলের ঘোষণা দেয়, যা পরবর্তীতে আদালতের রায়ে আবারও ফিরে আসে। আখতার হোসেনের মতে, এটি ছিল সরকারের একটি ষড়যন্ত্র। এই রায়ের পরই তিনি তার সংগঠন 'গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি'র সঙ্গে মিলে ক্যাম্পাসে একটি প্রতিবাদ বিক্ষোভের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেন।
আখতার হোসেন জানান, শুরু থেকেই তারা একটি নির্দিষ্ট কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। ১. রাজনৈতিক রং এড়ানো: তিনি নিজে একজন পরিচিত ছাত্রনেতা হওয়ায় সরাসরি সামনে না এসে পেছন থেকে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। এর কারণ ছিল, সরকার যেন সহজেই এটিকে রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে আখ্যায়িত করে দমন করতে না পারে। ২. সার্বজনীন অংশগ্রহণ: তারা আন্দোলনকে দলীয় ব্যানারের বাইরে রেখেছিলেন, যাতে যেকোনো সাধারণ শিক্ষার্থী বা ব্যক্তি এতে অংশগ্রহণ করতে পারে। ৩. কেন্দ্রীয় সমন্বয়: সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এক ছাতার নিচে আনার জন্য একটি কেন্দ্রীয় নির্দেশনা বা সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয়েছিল, যাতে সবখানে একইসঙ্গে আন্দোলন সংগঠিত হয়।
তিনি বলেন, ১৬ জুলাই রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধভাবে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হল থেকে বের করে দেয় এবং হলগুলোকে ছাত্রলীগমুক্ত করতে সক্ষম হয়। এটি ছিল আন্দোলনের একটি বড় বিজয়।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন