অক্টোবর ১, ২০২৫, ০৫:০৪ পিএম
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (১ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে তিনি এই শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার, তারেক রহমান ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের নিরাপত্তার অধিকারকে রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, 'শারদীয় উৎসবকে ঘিরে ফ্যাসিবাদী শাসনামলের মতো কেউ যাতে কোনো রকম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের মতো পরিস্থিতি কিংবা নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মতো কোনো অপচেষ্টা করতে না পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক এবং সজাগ থাকার জন্য আমি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাই।
একই সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও হিন্দু সম্প্রদায়কে বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের দল বিএনপির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিজয়া দশমী উপলক্ষে আমি হিন্দু ধর্মাবলম্বী সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। আমি তাদের সুখ, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করি। এই উৎসব সফল হোক, এটাই তাঁর প্রত্যাশা।
হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পরিষ্কার বার্তা, 'আপনারা উৎসাহ উদ্দীপনা সহকারে নিশ্চিন্তে নিরাপদে সারাদেশে উৎসব আনন্দ উদযাপন করুন, সৌহার্দ্য সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিন।' তিনি এবং তাঁর দল বিএনপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’ এবং ‘ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার’।
তিনি মনে করেন, উৎসবের ভেতর দিয়েই বিভিন্ন ধর্ম, গোত্র, সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যেকার পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য এবং ভ্রাতৃত্ব আরও বেশি পরিস্ফুটিত হয়। তারেক রহমানের কথায়, আমাদের রাষ্ট্র এবং সংবিধানে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের নিরাপত্তা বিধানের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। তাই বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বিবৃতির শেষে তারেক রহমান ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও নিরাপত্তার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি পবিত্র হাদিসের নির্দেশনা উল্লেখ করে বলেন, যে ব্যক্তি রাষ্ট্রের নিরাপত্তাপ্রাপ্ত অমুসলিমকে নির্যাতন করে, তার অধিকার খর্ব করে বা জুলুম করে—কেয়ামতের দিন স্বয়ং মহানবী (সা.) সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে লড়বেন।
এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে একজন নাগরিক হিসেবে অপর নাগরিকের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষায় যথাযথ ভূমিকা রাখাটাই হলো স্বাভাবিক রীতি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, উৎপীড়ন ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার মধ্য দিয়ে যারা সমাজকে ধ্বংস করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা ন্যায়সঙ্গত।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন