ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
ইসলামি শরিয়তে কবর জিয়ারত একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও হৃদয়স্পর্শী সুন্নত আমল। এটি মানুষকে দুনিয়ার মোহ কমিয়ে আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে জান্নাতুল বাকিতে গিয়ে কবরবাসীদের জন্য দীর্ঘ সময় দোয়া করতেন। বিশেষ করে শাবান মাসের মহিমান্বিত রজনী শবে বরাতে নবীজি (সা.) কবরবাসীদের সালাম ও মাগফিরাতের জন্য কবরস্থানে যেতেন বলে সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে পাওয়া যায় যে এই রাতে আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন এবং অগণিত মানুষকে ক্ষমা করে দেন।
শবে বরাতে মৃত আত্মীয়-স্বজনের কবর জিয়ারত করা আমাদের জন্য নবীজির সুন্নতের অনুসরণ। এর মাধ্যমে যেমন মৃত ব্যক্তিদের মর্যাদা বৃদ্ধি পায় তেমনি জিয়ারতকারী নিজেও সওয়াব ও ক্ষমা লাভ করেন। কবর জিয়ারতের সঠিক নিয়ম হলো কবরস্থানে প্রবেশের পর প্রথমে নির্ধারিত সালাম ও দোয়া পাঠ করা।
এরপর ইসালে সওয়াবের নিয়তে দরুদ শরিফ, সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি এবং সূরা ইখলাসসহ কোরআনের সহজ আয়াতগুলো তিলাওয়াত করা। তিলাওয়াত শেষে হাত তুলে বা মনে মনে মৃত ব্যক্তির রুহের মাগফিরাত কামনায় আল্লাহর দরবারে দোয়া করতে হয়।তবে কবর জিয়ারতের ক্ষেত্রে কিছু আদব বা শিষ্টাচার রক্ষা করা জরুরি। সরাসরি কবরের দিকে মুখ করে হাত তুলে দোয়া করা উচিত নয়। নিয়ম হলো কবরকে পেছনে রেখে কিংবা কবরের দিকে পিঠ দিয়ে কিবলামুখী হয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা।
রাসুলুল্লাহ (সা.) কবরবাসীর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের ওপর শান্তি বর্ষণের দোয়া করতেন এবং বলতেন যে আমরাও একদিন তোমাদের সঙ্গে মিলিত হবো। শবে বরাতের এই পবিত্র রাতে ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি কবর জিয়ারতের মাধ্যমে আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের জন্য ক্ষমার দোয়া করতে পারি যা ইসলামের একটি অনুপম সৌন্দর্য।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন