এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১০:০৩ এএম
জার্মান বুন্দেসলিগার ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য ও অবিস্মরণীয় কীর্তি স্থাপন করেছে বায়ার্ন মিউনিখ। শনিবার সেন্ট পাউলির বিপক্ষে ৫-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় পেয়ে দলটি ভেঙে দিয়েছে দীর্ঘ ৫৪ বছরের পুরোনো এক ঐতিহাসিক রেকর্ড। এর আগে ১৯৭১-৭২ মৌসুমে কিংবদন্তি ফুটবলার ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, গার্ড মুলার ও উলি হোয়েনেসদের নিয়ে গড়া বায়ার্ন মিউনিখ এক মৌসুমে ১০১টি গোল করার মাইলফলক স্পর্শ করেছিল।
ভিনসেন্ট কোম্পানির বর্তমান দলটি লিগের আরও পাঁচটি ম্যাচ হাতে রেখেই সেই রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছে। বর্তমানে লিগে বায়ার্নের মোট গোল সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৫-এ।
ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠে আধিপত্য বিস্তার করতে থাকে বাভারিয়ানরা। খেলার নবম মিনিটে জামাল মুসিয়ালার চমৎকার এক হেডে লিড নেয় বায়ার্ন। এই গোলের মাধ্যমেই তারা ১৯৭১-৭২ মৌসুমের ১০১ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসায়। এরপর ম্যাচের ৫৩ মিনিটে লিওন গোরেৎস্কা লক্ষ্যভেদ করলে সৃষ্টি হয় নতুন ইতিহাস।
বায়ার্ন পৌঁছে যায় ১০২ গোলের অবিশ্বাস্য এক উচ্চতায়। রেকর্ড ভাঙার সেই বিশেষ মুহূর্তে পুরো দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফরা বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠেন। এমনকি অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকেও সাইডবেঞ্চে সতীর্থদের সঙ্গে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে।রেকর্ড ভাঙা গোলের কিছুক্ষণ পরেই ব্যবধান ৩-০ করেন মাইকেল অলিস। এই মৌসুমে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা অলিস নিজে গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করাচ্ছেন নিয়মিত। এই পারফরম্যান্স তাকে টমাস মুলারের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ ১৮টি অ্যাসিস্টের রেকর্ডের খুব কাছাকাছি নিয়ে গেছে।
ম্যাচের বাকি গোল দুটি আসে নিকোলাস জ্যাকসন ও রাফায়েল গেরেইরোর পা থেকে। এই জয়ের ফলে ২৯ ম্যাচে ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শিরোপার আরও কাছে পৌঁছে গেল বায়ার্ন মিউনিখ। তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বরুশিয়া ডর্টমুন্ড বর্তমানে ১২ পয়েন্ট পিছিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।সামনে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ রয়েছে। সেই ম্যাচটির কথা বিবেচনা করে দলের প্রধান স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনকে এই ম্যাচে বিশ্রামে রাখা হয়েছিল।
চলতি মৌসুমে ৩১ গোল করা কেইন রবার্ট লেভানডভস্কির ৪১ গোলের রেকর্ড ছোঁয়ার অপেক্ষায় থাকলেও, তার অনুপস্থিতি বায়ার্নের গোল উৎসবে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। বর্তমান গতি বজায় থাকলে বায়ার্ন মিউনিখ মৌসুম শেষে সিরি-এ’র ১২৫ গোলের সর্বকালীন ইউরোপীয় রেকর্ডটিও ভেঙে দিতে পারে বলে ফুটবল বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। ৩৫তম বুন্দেসলিগা শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে থাকা দলটি আবারও প্রমাণ করল যে কেন তারা জার্মান ফুটবলের অবিসংবাদিত সম্রাট।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন