এপ্রিল ২, ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
চৈত্রের তপ্ত রোদের পরিবর্তে ঘন কুয়াশায় ঢাকা পড়েছে উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ভোর রাত থেকে সকাল সাতটা পর্যন্ত জেলাজুড়ে দেখা গেছে কুয়াশার দাপট। বসন্তের শেষ সময়ে এসে প্রকৃতির এমন আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে স্থানীয়দের মধ্যে রীতিমতো বিস্ময় তৈরি হয়েছে।
কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে আসায় সড়ক ও মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে বিভিন্ন যানবাহন।পঞ্চগড়ের স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ভোরে ঘুম থেকে জেগেই তারা চারপাশ কুয়াশায় ঢাকা দেখতে পান।
একই সাথে ভোরের দিকে বেশ শীত অনুভূত হয়েছে, যা চৈত্রের এই সময়ে স্বাভাবিক নয়। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে কুয়াশার ঘনত্ব দ্রুত কমতে শুরু করে এবং সকাল আটটার দিকে রোদের দেখা মেলে। এরপর দ্রুতই কুয়াশা মিলিয়ে যায় এবং সকাল নয়টার পর থেকে রোদের তীব্রতা লক্ষ্য করা গেছে।
ফলে সকালের সেই শীতল আমেজ নিমিষেই প্রখর তাপে রূপান্তরিত হয়।পঞ্চগড় আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ছয়টায় এবং সকাল নয়টায় জেলায় একই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার পাশাপাশি আকাশে মেঘের ঘনঘটা থাকায় এই কুয়াশা তৈরি হয়েছে। মূলত বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগের জলীয় বাষ্প ও মেঘের কারণে কুয়াশা হয়ে ঝরে পড়ছে। তবে এই কুয়াশা স্থায়ী হবে না এবং বেলা বাড়ার সাথে সাথে তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়।
এদিকে ভোরে ঘন কুয়াশার কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে জনজীবন স্বাভাবিক হয়ে আসে। অনেক পথচারী জানান, চৈত্রের শেষে এসে এমন ঘন কুয়াশা এই অঞ্চলে সচরাচর দেখা যায় না। তবে কুয়াশা কেটে যাওয়ার পর রোদের প্রখরতা জনজীবনে কিছুটা অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে। আবহাওয়া ও প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্যময় আচরণে এই অঞ্চলের কৃষিতে কোনো প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে কিছুটা সংশয় লক্ষ্য করা গেছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন