ডিসেম্বর ২৬, ২০২৫, ০৭:১০ পিএম
দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) ও বিরামপুর উপজেলায় নতুন আলু তোলার ধুম লেগেছে। মাঠজুড়ে কৃষক-কৃষাণিদের ব্যস্ততা আর রাস্তার মোড়ে মোড়ে বসা অস্থায়ী হাটে কর্মচাঞ্চল্য দেখা দিলেও আলুর দাম নিয়ে চাষিদের মনে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। গত বছরের তুলনায় এবার আলুর দাম প্রায় অর্ধেক বলে দাবি করছেন কৃষকেরা।
বিরামপুর ও হাকিমপুর কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে এই দুই উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। ফলন সন্তোষজনক হলেও বাজারে আলুর দর পতনে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।
হাকিমপুরের মাধবপাড়া মোড় ও স্থানীয় বাজারগুলোতে দেখা গেছে, বর্তমানে ‘ক্যারেজ’ জাতের আলু প্রতি মণ ৬০০ টাকা এবং ‘রোমানা’ জাতের আলু ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অথচ গত বছর এই সময়ে ক্যারেজ ২০০০ টাকা এবং রোমানা ২৫০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছিল। আলু চাষি আব্দুল মালেক বলেন, “ফলন ভালো হলেও দাম গতবারের চেয়ে অনেক কম। খরচ উঠলেও লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়েছে।তবে রোমানা জাতের আলুর দাম কিছুটা বেশি হওয়ায় এই জাতের চাষিরা কিছুটা স্বস্তিতে আছেন। কৃষক জাহিদ ইকবাল রানা জানান, বিঘা প্রতি ৩৫ মণ ফলন পেয়ে ১২০০ টাকা দরে বিক্রি করে কিছু মুনাফা হয়েছে। অন্যদিকে ক্যারেজ আলুর ফলন বিঘায় ৬০-৬৫ মণ হলেও কম দামের কারণে চাষিরা কাঙ্ক্ষিত লাভ পাচ্ছেন না।
আলুর এই ভরা মৌসুমে স্থানীয় নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের কর্মসংস্থান বেড়েছে। মাঠ থেকে আলু তোলা থেকে শুরু করে বস্তাবন্দি ও ট্রাকে লোড করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শত শত শ্রমিক। আড়তদার বেদার হোসেন জানান, এখানকার আলুর মান ভালো হওয়ায় ঢাকা, রাজশাহী ও খুলনায় ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে গত বছর এই হাটে দৈনিক কোটি টাকার লেনদেন হলেও এবার দাম কম থাকায় তা ৩০ লাখে নেমে এসেছে।
বিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কমল কৃষ্ণ রায় জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে বাজারজাতকরণ ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন