ডিসেম্বর ২৭, ২০২৫, ১১:০২ এএম
ভোলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নে বাড়ির আঙিনায় বরই চাষ করে অনন্য সফলতা অর্জন করেছেন যুবক মোহাম্মদ হোসেন। গত পাঁচ বছর ধরে ১৬০ শতাংশ জায়গাজুড়ে বরইয়ের বাগান করে তিনি এলাকায় এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ বছর তাঁর বাগান থেকে প্রায় ১৬ লাখ টাকার বরই বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্ব চরউমেদ এলাকার হাজি জালাল আহমেদের ছেলে হোসেন জানান, শুরুতে মাত্র এক একর পতিত জমিতে বরই চাষ শুরু করলেও লাভজনক হওয়ায় বর্তমানে তাঁর বাগানে ৪০০টি গাছ রয়েছে।
এ বছর তিনি দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (HSTU) সংলগ্ন নার্সারি থেকে পরামর্শ নিয়ে বল সুন্দরী, থাই আপেল কুল, চায়না টক-মিষ্টি কুল এবং ভারত সুন্দরী জাতের চারা রোপণ করেছেন।
ফলন ও বাজার দর: আবহওয়া প্রতিকূল থাকা সত্ত্বেও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করায় হোসেনের বাগানে ফলন বেশ ভালো হয়েছে। এরই মধ্যে তিনি প্রায় আড়াই লাখ টাকার ২ হাজার কেজি চায়না টক-মিষ্টি কুল বিক্রি করেছেন। বর্তমানে বাগান থেকে পাইকারি ১৩০ টাকা এবং খুচরা ১৫০ টাকা কেজি দরে বরই বিক্রি হচ্ছে। তাঁর এই সাফল্য দেখে স্থানীয় আরও ১৬ জন যুবক বাণিজ্যিকভাবে বরই চাষ শুরু করেছেন, যাদের তিনি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।
লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু হাসনাইন বলেন, "হোসেন সম্পূর্ণ হাইজানিক পদ্ধতিতে বাগান করছেন। ওনার বরইগুলো অত্যন্ত রসালো এবং মিষ্টি। আমরা নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করছি এবং নতুন কেউ উদ্যোক্তা হতে চাইলে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।"হোসেনের এই কৃষি বিপ্লব প্রমাণ করেছে, সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রম থাকলে বাড়ির পাশের পতিত জমিও আয়ের বড় উৎস হতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন