রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হলুদ চাদরে ঢাকা ঘোড়াঘাটের মাঠ: সরিষার বাম্পার ফলন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ০৯:৫৬ পিএম

হলুদ চাদরে ঢাকা ঘোড়াঘাটের মাঠ: সরিষার বাম্পার ফলন

ছবি-দিনাজপুর টিভি

প্রকৃতির ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ফসলের মাঠ। দিগন্ত জোড়া মাঠ এখন হলুদ সরিষা ফুলে ছেয়ে গেছে। মৌমাছিদের গুনগুনানি আর হলুদের এই নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখে পুলকিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। ধান বা অন্য ফসলের তুলনায় লাভজনক হওয়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার উপজেলায় সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ঘোড়াঘাটের ৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ২ হাজার ২৮৪ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। চাষকৃত জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে বারি-১৮, ১৪, ১৫, ৯, ১১ ও ১৭। 

গত মৌসুমে আবাদের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৬৬৫ হেক্টর। যদিও আবাদের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম, তবে এবার ফলন ও তেলের মান অনেক ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।সরেজমিনে ঘোড়াঘাট পৌরসভার শ্যামপুর এলাকার কৃষক ইয়াকুব আলীর সাথে কথা বলে জানা যায়, একসময় তাদের জমি পড়ে থাকলেও এখন সেখানে সরিষার আবাদ হচ্ছে। 

সরিষা তোলার পর সেই জমিতে আবার বোরো ধান লাগানো যাবে। বুলাকীপুর ইউনিয়নের কৃষক জয়নুল আলম ও সাইদুল ইসলাম জানান, প্রতি বিঘা জমিতে সরিষা চাষে খরচ হয়েছে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। খরচ বাদে বিঘা প্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন তারা। এছাড়া সরিষার জমিতে ব্যবহৃত সার পরবর্তী বোরো আবাদে কাজে লাগে বলে উৎপাদন খরচও কমে যায়।উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোমদেল হোসেন জানান, সরিষা প্রধানত দোআঁশ ও বেলে-দোআঁশ মাটিতে ভালো হয়।

 

কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাসে সামান্য চাষেই এই বীজ বোনা যায়। সরিষার পাতা পচে জমিতে চমৎকার জৈব সার তৈরি হয় এবং এটি গবাদি পশুর খৈল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রফিকুজ্জামান জানান, "সরিষা চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি। এ বছর সরকারি প্রণোদনার আওতায় আমরা ১ হাজার ৫০০ জন প্রান্তিক কৃষককে বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ ও সার সরবরাহ করেছি। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। আশা করছি, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এবার উৎপাদন অনেক ভালো হবে।