মে ১৮, ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বাণিজ্যিকভাবে মরুর দেশের দুম্বা পালন শুরু হয়েছে। উপজেলার দুটি খামারে এখন এই প্রাণীর লালন-পালন চলছে। দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নেওয়ায় খামারিরা এতে বড় লাভের আশা করছেন। ঘাস, খড় ও সাধারণ দানাদার খাদ্যেই স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে প্রাণীগুলো।তিন মাস বয়সী একটি দুম্বার দাম প্রায় এক লাখ টাকা।
উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের রুপালি অ্যাগ্রো লিমিটেডে বর্তমানে ৯টি দুম্বা রয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে মেহেরপুর থেকে ৯ লাখ টাকায় দুটি পুরুষ ও চারটি স্ত্রী দুম্বা এনে লালন-পালন শুরু করা হয়। শুরুতে কাঠের তক্তায় রাখায় পিঁপড়ার উপদ্ববে প্রাণীগুলো অসুস্থ হয়ে পড়েছিল।
পরে এক লাখ টাকা ব্যয় করে মাচার মতো আলাদা শেড তৈরি করা হয়। খামারের কর্মী শওকত আলী জানান, এখনই বিক্রি না করে প্রজননের মাধ্যমে সংখ্যা বাড়ানোর দিকে তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
উন্নত জাতের ভেড়ার চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি দামে বিক্রি হয় এই প্রাণী। এক বছর বয়সী একটি দুম্বার ওজন সাড়ে তিন মণ পর্যন্ত হলে সেটি তিন লাখ টাকা বা এর বেশি দামে বিক্রি করা যায়। তিন মাস বয়সেই একটি দুম্বার ওজন প্রায় ৪০ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রতিটির পেছনে মাসে গড়ে খরচ হয় আড়াই হাজার টাকার মতো।ভাটিয়ারী ইউনিয়নের জলিল গেট এলাকার ইউনিক গোট ফার্মে বর্তমানে ২৭টি পরিণত দুম্বা ও ৩টি বাচ্চা আছে। এখানে তুর্কি, পারশিয়ান ও আওয়াজি জাতের দুম্বা পালন হচ্ছে। খামারের মালিক সাবেক ব্যাংকার আদনান চৌধুরী করোনাকালে ২৬ লাখ টাকায় তিন জোড়া দুম্বা কিনে খামারটি শুরু করেন।
চলতি বছরে তিনি ৪৯টি দুম্বা বিক্রি করেছেন। এর মধ্যে চলতি মাসের ৫ তারিখে ঢাকার গাবতলীর এক ব্যবসায়ীর কাছে ২৫টি দুম্বা ৭৫ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এই দুম্বাগুলো কোরবানির বাজারে বিক্রি করা হবে বলে জানা গেছে।উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কল্লোল বড়ুয়া জানিয়েছেন, দুম্বার রোগবালাই কম এবং পালন করা তুলনামূলক সহজ। তবে দাম বেশি হওয়ার কারণে ছোট খামারিরা এখনো বড় ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না। সরকারি এই দপ্তর থেকে নিয়মিত খামারগুলো পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন