জুন ৫, ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
এক বিঘা জমিতে ৫০ হাজার টাকা খরচ করে ৪ লক্ষ টাকার মরিচ বিক্রি করা সম্ভব। উন্নত কৃষি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি লাভবান হচ্ছেন। পানি নিষ্কাশনের সুবিধাযুক্ত উঁচু দোআঁশ মাটি মরিচ চাষের জন্য সবথেকে উপযোগী। চারা তৈরি করে জমিতে রোপণ কিংবা সরাসরি বীজ বুনেও এই চাষাবাদ করা যায়।
সঠিক নিয়ম মেনে চাষ করলে ফলন মেলে ভালো।
চারা রোপণের ক্ষেত্রে দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। চারা ১০ সেন্টিমিটার উঁচু হলে ৬০ থেকে ৭০ সেন্টিমিটার দূরত্বে সারিতে এবং ২৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার দূরে চারা লাগাতে হয়। জমি তৈরির জন্য চার থেকে ছয়টি চাষ ও মই দিয়ে মাটিকে ঝুরঝুরে করে নিতে হয়। জমি তৈরির সময় প্রতি বিঘায় এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৩০০ কিলোগ্রাম জৈব সার, ৪০ কিলোগ্রাম টিএসপি, ছয় কিলোগ্রাম এমওপি এবং ১৫ কিলোগ্রাম জিপসাম সার মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হয়।
সার প্রয়োগের সুনির্দিষ্ট সময় রয়েছে।
চারা রোপণের ২৫, ৫০ ও ৭০ দিন পর তিন কিস্তিতে নয় কিলোগ্রাম ইউরিয়া ও ছয় কিলোগ্রাম এমওপি সার উপরি প্রয়োগ করতে হয়। গাছের বৃদ্ধি ও ফলন ঠিক রাখতে নিয়মিত আগাছা দমন ও প্রয়োজনীয় সেচ প্রদান নিশ্চিত করা জরুরি। মরিচ পুষ্ট হয়ে উঠলে তা সংগ্রহ করতে হয়। বীজ তৈরির জন্য পাকা মরিচ নির্বাচন করে তা শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যায়।
রোগবালাই দমনে সজাগ থাকতে হবে।
মরিচ জলাবদ্ধতা একেবারেই সহ্য করতে পারে না। মাইট ও থিপস পোকার আক্রমণ হলে সঠিক কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়। এছাড়া উইলটিং, অ্যানথ্রাকনোজ বা ডাইব্যাক রোগের আক্রমণ দেখা দিলে ছত্রাকনাশক ব্যবহার করে তা দমন করা প্রয়োজন। জাতভেদে প্রতি শতকে কাঁচা মরিচ ৪০ থেকে ৫০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত উৎপাদন হতে পারে।
আইল ফসল হিসেবে বরবটি বা ঢেরস লাগানো যেতে পারে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরামর্শ গ্রহণ করলে কৃষকরা লাভজনক এই চাষে সহজেই সফল হতে পারেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন