আগস্ট ২৫, ২০২৬, ০৬:৫৯ পিএম
কৃষিখাতে যেকোনো ফসল আবাদের আগে তার সঠিক সময় ও বাজারদর সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। বিশেষ করে মরিচ চাষের ক্ষেত্রে মৌসুম ও অসময়ের মধ্যকার পার্থক্য কৃষকদের লাভের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেয়। লাভজনক ফলন পেতে হলে সাধারণ মৌসুমের বাইরে গিয়ে সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী চারা রোপণ করতে হয়।বছরের মে থেকে জুন মাসে মরিচ লাগালে বৃষ্টির কারণে ঝুঁকি বেশি থাকলেও পরবর্তীতে তা সর্বোচ্চ দামে বিক্রি করা সম্ভব হয়।
সাধারণ নিয়মে অক্টোবর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত মরিচের মূল মৌসুম ধরা হয়, যখন প্রায় সব কৃষকই এর আবাদ করেন। তবে এই সময়ে বাজারে প্রচুর সরবরাহ থাকায় দাম কিছুটা কম থাকে। অন্যদিকে এপ্রিল ও মে মাসের ভরা বর্ষায় আবাদ করলে অর্ধেকের বেশি গাছ মারা যাওয়ার শঙ্কা থাকে। কিন্তু যারা এই প্রতিকূলতা পার করে ফসল ঘরে তুলতে পারেন, তারা জুলাই বা আগস্ট মাসে বাজারে প্রতি কেজি মরিচ তিনশ থেকে চারশ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করতে পারেন।
ঝুঁকি এড়িয়ে ভালো ফলন ও সন্তোষজনক দাম পাওয়ার জন্য কৃষি বিশেষজ্ঞরা জুলাই থেকে আগস্ট মাসকে সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হিসেবে বিবেচনা করেন। এই সময়ে আবাদকৃত মরিচ বাজারে আসার পর পাইকারি পর্যায়ে কেজিপ্রতি আশি থেকে দুইশ টাকা পর্যন্ত দাম পাওয়া যায়। হিসাব অনুযায়ী, তেত্রিশ শতাংশ বা এক বিঘা জমিতে প্রায় সাড়ে চার হাজার মরিচের চারা রোপণ করা যায়। এর মধ্যে নানা রোগবালাইয়ে কিছু চারা নষ্ট হলেও অন্তত চার হাজার সুস্থ গাছ থেকে ফলন পাওয়া সম্ভব।
বর্তমানে বাজারে ভারতীয় মরিচ প্রবেশের কারণে পাইকারি দর কেজিপ্রতি পঞ্চাশ থেকে ষাট টাকায় নেমে এলেও তা সাময়িক বলে মনে করা হচ্ছে। সমতল জমিতে প্রতিটি সুস্থ গাছ থেকে গড়ে আড়াই থেকে তিন কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। এই ফলন সঠিকভাবে বাজারজাত করতে পারলে দাম কম থাকলেও কৃষকদের আর্থিক ক্ষতির কোনো শঙ্কা থাকে না।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন