জুলাই ৪, ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার যমুনা নদীর বুকে জেগে ওঠা দক্ষিণ ময়ুমারি গ্রামের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে প্রায় অর্ধশত বিঘা জমিতে দেশি ও বিদেশি জাতের আমের বাগান গড়ে তুলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন উচ্চশিক্ষিত উদ্যোক্তা মাহমুদুল হাসান রোমান মিয়া। ২০০৯ সালে তিনি যখন কৃষিকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তখন তার পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা বা প্রয়োজনীয় সহায়তা কোনোটিই ছিল না।
শুরুতে স্থানীয়রা তার এই উদ্যোগকে অবাস্তব মনে করলেও রোমান মিয়ার নিরলস পরিশ্রম ও একাগ্রতায় সেই ধারণা বদলাতে সময় লাগেনি। বর্তমানে তার এই সুবিশাল বাগানে আমেরিকা ফ্লোরিডা থাইল্যান্ড ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশের উন্নত জাতের আমের চাষ হচ্ছে এবং তিনি প্রতিনিয়ত নতুন জাত নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু ফল উৎপাদনই নয় বরং দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষার পর সফল জাতগুলোর চারা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত করে তিনি নার্সারি খাতেও বড় অবদান রাখছেন।
তার উৎপাদিত সুমিষ্ট ও রসালো আমের স্বাদ নিতে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ ভিড় করছেন। রোমানের এই উদ্যোগ কেবল তাকেই স্বাবলম্বী করেনি বরং এলাকার অনেকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে যেখানে সারা বছর নিয়মিতভাবে বেশ কিছু মানুষ কাজ করেন এবং আমের মৌসুমে এই সংখ্যা পঞ্চাশ থেকে ষাট জন ছাড়িয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা এমন উদ্যোগে আনন্দিত কারণ এর ফলে এলাকার বেকারত্ব দূর হচ্ছে এবং আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটছে।
তবে এই যাত্রায় সার কীটনাশক ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বৃদ্ধি এবং সময়মতো সরবরাহের অভাবের মতো কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও তিনি তুলে ধরেছেন। রোমান মিয়া বিশ্বাস করেন সরকার যদি আধুনিক প্রযুক্তি সঠিক প্রশিক্ষণ এবং কৃষি উপকরণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করে তবে দেশের বেকার যুবকেরা এ ধরনের কাজে উৎসাহিত হবে এবং কৃষি খাতের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন