জুলাই ২০, ২০২৬, ০৪:৪৬ পিএম
দিনাজপুরে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও রাইস প্লান্টার মেশিনের ব্যবহার কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদের পরিবর্তে যন্ত্রের ব্যবহারের ফলে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ কমছে, অন্যদিকে সময় ও শ্রম দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে। কৃষিতে নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তারা এখন আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া আনছেন, যা কৃষিকে পেশা হিসেবে লাভজনক করে তুলছে।আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে কৃষকের মুখে এখন হাসির ঝিলিক।
শুরুতে এলাকাবাসী নতুন এই যন্ত্রের ব্যবহার দেখে অবাক হলেও, বর্তমান ফলন ও কার্যকারিতা দেখে অনেকেই অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। যন্ত্রের মাধ্যমে চারা রোপণ করলে চারার গ্রোথ বা বৃদ্ধি হাতে লাগানো চারার চেয়ে অনেক ভালো হয় এবং টিলারিং বা কুশির সংখ্যাও বেশি পাওয়া যায়। একজন উদ্যোক্তা জানান, ৩০ শতাংশ জমি হাতে রোপণ করতে যেখানে চারজন শ্রমিকের সারাদিন সময় লাগত, সেখানে আধুনিক মেশিন দিয়ে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিটেই তা সম্পন্ন করা সম্ভব। ফলে শ্রমিকের কষ্ট কমছে এবং কৃষিকাজ দ্রুততর হচ্ছে।
গত আমন মৌসুমে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রায় ১৩৫০ বিঘা জমিতে কৃষকদের চারা রোপণ করে দেওয়া হয়েছে। আধুনিক কৃষি শিক্ষা গ্রহণের পর অনেকে কৃষিকে মহৎ পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। যদিও শুরুতে সমাজের অনেক মানুষ একে ভিন্নভাবে দেখত, কিন্তু প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে কৃষিকে লাভজনক করার লক্ষ্যেই তারা মাঠে নেমেছেন।
এখন শুধু ধান রোপণ নয়, ধান কাটার কাজও মেশিনের মাধ্যমেই সম্পন্ন হচ্ছে। কৃষকরা এখন বুঝেছেন যে সনাতন পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে প্রযুক্তিতে না আসলে ভবিষ্যৎ কৃষিকে টিকে রাখা কঠিন হবে। উন্নত বিশ্বের মতো আধুনিক যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে তরুণরা এখন কৃষিকে ব্যবসায়িক মডেলে রূপান্তর করছে। অদূর ভবিষ্যতে কৃষকদের শারীরিক পরিশ্রম অনেকাংশে কমে আসবে এবং প্রযুক্তিই হবে কৃষির প্রাণ।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন